করোনাভাইরাসের কারণে যদি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বাকি খেলাগুলো আর না হয়, তাহলে ক্লাবগুলোর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১১৩ কোটি পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।

এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতি সামাল দেয়ার জন্য প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলারদের বেতনের ৩০ শতাংশ করে কেটে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল আয়োজকদের পক্ষ থেকে। কিন্তু ক্লাব মালিক ও আয়োজকদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি খেলোয়াড়রা।

সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনে ৩০ শতাংশ নয়, আরও বেশি বেতন ছাড়তে রাজি তারা। তবে সেটা ক্লাব মালিকদের জন্য, বরং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য। কেননা খেলোয়াড়রা ক্লাব থেকে বেতন কম নিলে, তা শুধুমাত্র ক্লাব মালিকদেরই সুবিধা দেবে, অসহায় মানুষদের নয়।

বেতন কম রাখার প্রস্তাব দিয়ে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়-কোচদের নিয়ে একটি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি আয়োজকরা।

কারণ খেলোয়াড়রা সরাসরিই জানিয়েছে বেতন কম নেয়ার প্রশ্নই আসে না। বেতনের টাকা নিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় (এনএইচএস) নিয়োজিতদের হাতে তুলে দেয়া হবে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে শক্ত এক উত্তর, ‘আমরা প্রয়োজনে ক্যাশ টাকা এনএইচএসকে দিয়ে দেবো। আমাদের ধনী মালিকদের সাহায্য করার কোনো কারণ নেই।’

খেলোয়াড়দের এই অবস্থানে সমর্থন দিয়েছে ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন ‘প্রফেশনাল ফুটবলারস অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)’। তারা দিয়েছে এক নতুন তথ্য। যদি খেলোয়াড়দের বেতনের ৩০ শতাংশ কেটে রাখা হয়, তাহলে সরকার প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড (দুই হাজার কোটি টাকার বেশি) কর হারাবে। যা কি না ব্যবহার করে হতে পারে অসহায়দের সাহায্যে।

পিএফএ’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘১২ মাসের জন্য খেলোয়াড়দের বেতনের ৩০ শতাংশ কেটে রাখা যে প্রস্তাব, তা মানা হলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড বেঁচে যাবে। যেখান থেকে সরকার প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড আয়কর হারাবে। এমন কিছু ভাবার আগে কি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা এনএইচএসের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে।’

প্রিমিয়ার লিগ আয়োজকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে থাকা খেলোয়াড়দের ভাষ্য, ‘সবগুলো ক্লাবই তো ধনী মানুষদের দ্বারা পরিচালিত। আমরা কেন তাদের সাহায্য করবো? খেলোয়াড়রা অবশ্যই সাহায্য করতে চায়, অনেকে নিজের মতো করে তা করছেও। বর্তমান পরিস্থিতিটা সবাই বোঝে। আমাদের একটাই কথা, সাহায্যটা যেন সঠিক মানুষদের হাতে পৌঁছায়।’