টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে গিয়ে ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেয়ার কারণেই মূলত বাংলাদেশি তাবলিগের কিছু সদস্যের ভিসা বাতিল করেছে ভারত। সেইসঙ্গে তাদের কালো তালিকাভুক্ত এবং মামলা করেছে দেশটি।

বিশেষ করে সেদেশে চলমান লকডাউনের মধ্যে দিল্লির নিজামউদ্দিনে তাবলিগ জামাতের মার্কাজ মসজিদে ইজতেমায় অংশ নেয়ায় সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে বেশি। এ কারণে কঠোর এই ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেশী দেশের আইন না মেনে এসব বাংলাদেশি দেশকে বিব্রত করেছেন বলে মন্তব্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা নিশ্চয় ভালো কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। তবে সে দেশের আইন তাদের মানা উচিত ছিল।

ভারতের আইন না মানায় দেশটি তাদের ভিসা বাতিল ও কালোতালিকাভুক্ত করেছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থার পিটিআই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, দিল্লির নিজামউদ্দিনে তাবলিগ জামাতের মার্কাজ মসজিদে ইজতেমায় যোগ দেয়া ৯৬০ জন বিদেশিকে কালোতালিকাভুক্ত এবং তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে রোববার বিবিসি বাংলা জানায়, ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশ তাবলিগ জামাতের সদস্য ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু করেছে। তারা দিল্লির মার্কাজ নিজামুদ্দিনের জামাতে অংশ নিয়ে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উত্তরপ্রদেশের একটি তাবলিগ মসজিদে অবস্থান করছিলেন।

ইতোমধ্যে তাদের দুজনের করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, বাকিদেরও পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ওই দুজনকে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য প্রস্তত করা একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এবং বাকিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) বলেন, “বেশ কিছু বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে ভারত, যারা সম্প্রতি দিল্লির নিজামউদ্দিনে তাবলিগ জামাতের মার্কাজ মসজিদে ইজতেমায় যোগ দিয়েছিলেন।”

“দেখুন, এই ইজতেমায় শুধু বাংলাদেশি নয়, অন্যান্য দেশের মুসল্লিরাও অংশ নিয়েছিল। আর সেখান থেকে দিল্লিতে করোনাভাইরাসের আক্রোন্তের সংখ্যাও বেড়েছে,” – বলেন তিনি।

ফরিদ হোসেন বলেন, সেসব বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের কারণ হলো, তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে ঢুকে এই সমাবেশে অংশ নিয়েছে, যা দেশটির আইনের লঙ্ঘন।”

বাংলাদেশের এই প্রেস মিনিস্টার বলছিলেন, “এসব বাংলাদেশির হদিস মিলছে না। ভারত সরকার তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। পাওয়া গেলে প্রথমেই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখছে। তারা যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাদের মাধ্যমে যেন সেটি আর না ছড়ায়।”

“তাছাড়া তাবলিগের জামাতে অংশ নেয়া কয়েকজন বাংলাদেশির নামে মামলাও হয়েছে শুনেছি। তবে এই সংখ্যাটা সম্পর্কেও আমরা নিশ্চিত নই। হয়তো ভারতের কর্তৃপক্ষ পরে বিষয়টি আমাদের জানাবে,”- বলেন ফরিদ হোসেন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনাবিষয়ক সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব খলিলুর রহমান বলেন, “দিল্লিতে তাবলিগের জামাতে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ও মামলা করার কথা আমরা শুনেছি। তবে সংখ্যাটা এখনও জানি না। জানার চেষ্টা করছি। আপনারা তো জানেন, বৈশ্বিক মহামারির এই কঠিন সময়ে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা কঠিন।”

তিনি বলেন, কোনো দেশের আইন ভঙ্গ করলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইননগত ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার সে দেশের রয়েছে। আর কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে তারা আর ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই তালিকায় বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

তবে দিল্লির জামাতে অংশ নেয়া তিন থেকে চারজন ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নিয়েছি।”

শিক্ষার্থীসহ ভারতে আটকে পড়া অন্য বাংলাদেশিদের দেশটিতে চলা ‘লকডাউন’ শেষ হওয়ার পরে ফেরত আনা হবে বলে জানান মিনিস্টার ফরিদ হোসেন।

তবে ততদিন দেশটিতে থাকতে যাতে তাদের যেন কোনো অসুবিধা হয় সে ব্যাপারে ভারত সরকারের সহায়তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।