ক্যারিবীয় ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের অন্যতম সদস্য মাইকেল হোল্ডিং। ব্যাটসম্যানদের সামনে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। বুক, কাঁধ আর মাথা বরাবর বুলেটের গতিতে ছুটে যেত তার একেকটি ডেলিভারি। যে কারণে হোল্ডিংয়ের নামই হয়ে গেছিল ‘হুইস্পারিং ডেথ’।

ক্লাইভ লয়েড, গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডসের মতো ব্যাটিং তারকাদের সঙ্গে বেশ মানানসই ছিল তাদের পেস চতুষ্টয়। মাইকেল হোল্ডিং, কলিন ক্রফট, অ্যান্ডি রবার্টস ও জোয়েল গার্নার- চার গতিদানবকে একসঙ্গে বলা হতো ‘ফোর হর্সম্যান’। যাদের হাত ধরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিল ক্যারিবীয়রা।

সেসব এখন সোনালী অতীত। দলীয় সাফল্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করলেও, ওয়ানডে ও টেস্টে যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম নিশানা খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম দুই বিশ্বকাপ জিতলেও গত কয়েক আসরে সর্বোচ্চ কোয়ার্টার ফাইনালই তাদের সম্বল। টেস্ট ক্রিকেটে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয় যেন এখন অলীক কল্পনা।

এ কারণে যেকোন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থকের জন্য প্রিয় দলের পক্ষে বাজি ধরা, আশা রাখা বেশ কঠিন কাজই বটে। তবে এই কাজটিই করে যাচ্ছেন কিংবদন্তি পেসার হোল্ডিং। তার মতে অন্ধকার শেষে খুব শীঘ্রই আলো আসছে ক্যারিবীয় ক্রিকেটে। যা ফিরিয়ে আনবেন তিন ব্যাটসম্যান।

কোন তিন ব্যাটসম্যান? হোল্ডিং জানিয়েছেন সেটিও। তার মতে শাই হোপ, নিকলাস পুরান ও শিমরন হেটমায়ারের সামর্থ্য আছে উইন্ডিজ ক্রিকেটকে পুনরায় জাগিয়ে তোলার। তাদের ব্যাটেই আবারও সর্বজয়ী হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ- এমনটাই বিশ্বাস হোল্ডিংয়ের।

তিনি বলেন, ‘আমি অন্ধকার শেষে আলো দেখছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে। কারণ এখানে প্রতিভা আছে। এখন দেখার বিষয় তারা এটাকে কীভাবে কাজে লাগায়। আমরা যদি প্রতিভার মূল্যায়ন করে তাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করতে পারি, তাহলে অবশ্যই দল হিসেবেও ভাল করতে পারব। কারণ একক প্রতিভা কখনওই দলীয় সাফল্য আনতে পারবে না।’

এসময় তিন ব্যাটসম্যানের নাম উল্লেখ করে হোল্ডিং আরও বলেন, ‘আমি এখন তিনজনের নাম বলতে পারি, যারা ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে দারুণ করতে পারবে। পুরান, হেটমায়ার এবং হোপ- কেউ কি বলতে পারবে যে এ তিনজন ব্যাটিং পারে না? দলের আরও অনেকেই আছে। তবে আমি এদের কথা বলছি কারণ গত ২-৩ বছরে এরাই সেরা প্রতিভা। এখন নিশ্চিত করতে হবে তাদের প্রতিভা যেন যথাযথ কাজে লাগে।’