টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে বড় অবদান ছিল মিডিয়াম পেসার জোগিন্দর শর্মার। ফাইনাল ম্যাচের শেষ ওভারে মিসবাহ উল হককে আউট করে সেদিন দেশবাসীর চোখে ক্রিকেট মাঠের হিরো হয়েছিলেন তিনি।

সেই ফাইনালের পর পুরোপুরি আলোচনার বাইরে চলে যান তিনি। ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে নাম লেখান মানবতার সেবায়, বেছে নেন পুলিশ জীবন। আর এই পুলিশ হওয়ার সুবাদেই প্রায় ১৩ বছর পর পাদপ্রদীপের আলোয় এলেন জোগিন্দর।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামনে থেকে লড়ছেন বলে, তাকে ভারতের আসল হিরো বলে আখ্যায়িত করেছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেই জোগিন্দরই এবার বলছেন, এই অবস্থায় আইপিএল হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, করোনার কারণে আপাতত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে আইপিএল। এটি যে আরও পেছাবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে অনেক সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার চাইছেন, খুব বেশি না পিছিয়ে প্রয়োজনে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই করা হোক আইপিএল।

এমন কোন সিদ্ধান্তে একদমই মত নেই হরিয়ানা পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত জোগিন্দরের। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগে খালি স্টেডিয়ামেও আইপিএল চালানোর কোন সুযোগ দেখছেন না তিনি।

ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘করোনা দূর হওয়ার আগপর্যন্ত এটা (আইপিএল) হওয়া উচিৎ নয়। এখন যদি আইপিএল অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে এটা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ মাঠে দর্শক আসবেই। এমনকি আপনি যদি শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের নিয়েই করে, তবুও প্রতি দলের সঙ্গে খেলোয়াড়-সাপোর্ট স্টাফ মিলে অন্তত ৩০-৪০ জন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ভ্রমণ করবে। তাই এটা এখন হওয়ার সুযোগ নেই, কড়াকড়িভাবে বলছি, না।’

এসময় বিশ্বকাপ জেতার চেয়ে করোনা যুদ্ধে নামাকেই বড় কৃতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন জোগিন্দর। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এবারের অবদানটা অনেক বড়। কারণ এখানে মানুষের জীবনের প্রশ্ন। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাও বড় বিষয় ছিল। কিন্তু এবার আমরা দেশকে বাঁচানোর জন্য লড়ছি। যেখানে আমি খুব ছোট অবদান রাখলেও, সেটা অনেক বড়।’