ফুলকি ডেস্ক : বগুড়ায় ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষেরা। শনিবার দুপুরে শহরের মাটিডালি মোড়ের পাশে মোজামনগর এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ মিলে বিক্ষোভ করেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো- ‘আমরা অনাহারে আছি’, ‘আমরা খাবার চাই’সহ বিভিন্ন শ্লোগান।

এসময় বিক্ষোভকারী রিকশা চালক মোসলেম উদ্দিন বলেন, বাবারে আজ ১৬দিন হলো কোন আয়-রোজগার নেই। সরকারের কেউ আমাদের এখানে আজ পর্যন্ত চাল-ডাল কিছুই দেয়নি। তাই আমরা মহল্লার সব লোকজন ত্রাণের দাবিতে বড় সড়কের মোড়ে গিয়েছিলাম।

পাশের নওদাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা শান্তনা খাতুন জানান, তিনি বাড়ি বাড়ি কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বেচা-বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে যা সঞ্চয় ছিল সেগুলোও শেষ হয়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা শুনতেছি সরকার সব গরীব লোকদের সহায়তা করতিছে (করছে)। কিন্তু আমাদের এখানে কোন সাহায্য আসিচ্চে (আসছে) না। তাই আমরা সবাই মিলে সাহায্য চাইয়ে দাঁড়াছলাম (দাঁড়িয়েছিলাম)।’ স্থানীয় পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানিয়েছিলেন কি’না-এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহিম নামে এক দিনমজুর বলেন, তিনি তো অনেকদিন আগে তালিকা করে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোন সাহায্য আজ পর্যন্ত আসেনি।

আরও পড়ুন >> কারো ঘরে খাবার নেই, এমন রিপোর্ট পাইনি : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

বগুড়ার ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টার কিছু আগে খবর আসে যে, বেশ কিছু লোক মাটিডালি বিমান মোড় থেকে কিছুটা উত্তর দিকে মোজাম নগর এলাকায় ত্রাণের দাাবিতে অবস্থান নিয়েছে। আমরা যাওয়ার পর পর সেখানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমানও যান। পরে তিনি সকলকে খাদ্য সহায়তার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যান। 

বগুড়া শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার উত্তরে পৌরসভার শেষ সীমানা মোজামনগর। এলাকাটি বগুড়া পৌরসবার ১৭ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। সদর উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে ওই গ্রামের প্রায় ৩০০ বসত-বাড়ি রয়েছে। সেখানকার অধিকাংশ লোকজনই রিকশা চালিয়ে নয়তো দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। 

বগুড়া পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদ বলেন, ‘আমাকে ইউএনও সাহেব ৫০০জনের তালিকা দিতে বলেছিলেন। আমি ১০দিন আগে সেই তালিকা তাকে দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সহায়তা আসেনি।’

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকে যে তালিকা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ৯ এপ্রিল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেগুলো অতি দ্রুত বিতরণ করা হবে।’