কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ভৈরব থানার সব পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে জেলা পুলিশ লাইন থেকে ৪ জন অফিসারসহ ৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে ভৈরব থানায় পাঠানো হয়েছে।

ওই পুলিশ সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে ৫ জন ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৬৯ জন।

উল্লেখ, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভৈরব থানায় কর্মরত একজন সাব-ইন্সপেক্টর মর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়। এ খবরের পরপরই উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে ভৈরকে লকডাউন করাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময়ে ৫ ডাক্তার ও ১৫ পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়, যা করোনা প্রতিরোধ কমিটির গণবিজ্ঞপ্তিতেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ডাক্তারসহ ৪ ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন >> করোনায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই কোটি, দাবি গবেষকের

ওই পুলিশ সদস্য যেহেতু করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেও দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই থানার অন্য পুলিশ সদস্যদেরও করোনায় সংক্রমিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এমন অবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার রাত ১০টার দিকে এক নির্দেশনায় থানার সব পুলিশকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে বলেন।

৬৪ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২ পরিদর্শকসহ (ওসি) ৩১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে (নিজ নিজ বাসায়) আর ৩৩ জনকে স্থানীয় শহীদ আইভি রহমান পৌর স্টেডিয়ামে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

এদিকে করোনা আক্রান্ত ওই পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে আসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ অপর ৪ চিকিৎসককেও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানান উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: বুলবুল আহমেদ।

অপরদিকে ভৈরবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে শুক্রবার রাত থেকেই ভৈরব লকডাউন ঘোষণা করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি।