দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার ডিএসই থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলমান সাধারণ ছুটির ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল এবং ১৯ হতে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল এবং ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ট্রেডিং, সেটেলমেন্ট কার্যক্রমসহ সব দাফতরিক কাজ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এর আগে প্রথমে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর সরকার সাধারণ ছুটি বাড়ালে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে তা বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল করা হয়। আর এবার চতুর্থ দফায় তা বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হলে ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন সরকারের সাধারণ ছুটি থাকবে ততদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে না। ২৫ এপ্রিলের পর সাধারণ ছুটি না বাড়লে ২৬ এপ্রিল থেকে আবার শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস হয়েছে। নতুন সার্কিট ব্রেকার চালু করে পতনের লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু লেনদেন খুব একটা হচ্ছে না। লেনদেন বন্ধ করার আগের কয় কার্যদিবসে যে লেনদেন হয়েছে, তাতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিদ্যুৎ বিলের খরচই উঠবে না। এ পরিস্থিতিতে বন্ধের মধ্যে লেনদেন চালালে সবারই লোকসানের পাল্লা ভারি হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার শেয়ারবাজার পরিস্থিতি ভালো করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। কিন্তু করোনাভাইরাস শেয়ারবাজারের বড় ক্ষতি করে দিয়েছে। কতদিন এই করোনার প্রকোপ চলবে তা কেউ বলতে পারে না। আবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও শেয়ারবজারের পরিস্থিতির উন্নতি হতে অনেক সময় লেগে যাবে বলে মনে হচ্ছে।