স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের জয়নাবাড়ি এলাকার প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনের (৫২) শরীরে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট ছিল। এসব উপসর্গ নিয়ে তিনি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ৬০৭ নম্বর রুমে ছিলেন। ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর এ-হাসপাতাল, ও-হাসপাতাল করে অবশেষে রাজধানীর একটি হাসপাতালে আধা ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যান জসিম উদ্দিন। সে দীর্ঘ দিন ধরে জয়নাবাড়ি এলাকায় বাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কেরাণীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামে।

আরও পড়ুন >> এনাম মেডিকেলসহ ৬৯টি প্রাইভেট হাসপাতালে মিলবে করোনার চিকিৎসা

জানতে চাইলে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল কাদের বলেন, জসিম উদ্দিনকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সত্যি নয়। আর তাঁর করোনাভাইরাসের লক্ষণ ছিল কি না, তা আমার জানা নেই।’ এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) সব ধরনের সুবিধা থাকার পরও জসিমকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান আনোয়ারুল কাদের।
জসিম উদ্দিন যে হাসপাতালে মারা গেছেন, সেখানকার চিকিৎসক বলেছেন, তাঁর মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক আলামতে তাঁর দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি।


জসিম উদ্দিনের শ্যালক ইকবাল হোসেন বলেন, তাঁর ভগ্নিপতি বুধবার থেকে শরীরে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি এ সমস্যা নিয়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রোববার বেলা একটারদিকে তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলের দিকে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তখনই তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু জসিমউদ্দিনের পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় তাদের উপর অনাবরত চাপ সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আনসার ডেকে আনেন। পরে রাত ১০টারদিকে তাঁর ভগ্নিপতিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন >> গাজীপুরে বেতনের দাবিতে লকডাউন ভেঙে সড়কে পোশাক শ্রমিকরা


স্বজনদের ভাষ্য, পরে তারা জসিম উদ্দিনকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁরা। করোনাভাইরাসের সন্দেহ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। তাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকার লক্ষণ মেলেনি। তাই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে রবিবার দিবাগত রাত দেড়টারদিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা নানা অজুহাতে তাঁকে ভর্তি করেননি। তারা নয়াবাজারের ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাত তিনটার দিকে ওই হাসপাতালে গিয়ে অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর তাঁকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ভর্তির আধা ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান জসিম উদ্দিন।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সায়েম বলেন, ‘কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে রোগীকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর হৃদ্যন্ত্র কাজ করছিল না। ভর্তির আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনি মারা যান।’

এদিকে গতকাল রাতেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে জসিম উদ্দিনের বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ। তিনি বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গতকাল রাতে জসিম উদ্দিনের বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।