২০০১ সালে ছায়ানটে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে বোমা হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। আজ এই ঘটনার ১৯ বছর। এই আলোচিত হত্যা মামলার রায় ছয় বছর আগে দেয়া হলেও বিস্ফোরক মামলার রায় হয়নি এখনো। মামলার সাক্ষীরা না আসায় বিস্ফোরক মামলাটির বিচার এখনও ঝুলে আছে।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছেন, মামলার অধিকাংশ সাক্ষীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মামলা দু’টির সাক্ষী একই ছিল। এক সঙ্গে দুটি মামলার বিচার পরিচালিত না হওয়ায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটির বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় দুইটি মামলা হয়। দুই মামলারই আসামি ও সাক্ষী একই। হত্যা মামলার বিচার ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দুই মামলার বিচার একসঙ্গে পরিচালিত না হওয়ায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটির বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আদালত বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাক্ষীদের এনে মামলাটি নিষ্পত্তি করব।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘নির্ধারিত প্রতি তারিখে সাক্ষীদের হাজির না করায় মামলাটির বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা চাই মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ হোক। রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে ন্যায়-অন্যায়ের।’

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। গত ১২ মার্চ মামলাটির সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। এজন্য আদালত ১২ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের কারণে ১২ এপ্রিল আদালত ছুটিতে থাকায় বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সাধারণ ছুটি শেষ হলেই মামলাটির সাক্ষ্যের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হবে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (বাংলা ১৪০৮ সনের ১ বৈশাখ) ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে বোমা হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। ওই ঘটনার পর রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।

২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর মধ্যে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন, মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক), হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মাওলানা আবু বকর, মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক) ও আরিফ হাসান সুমন। তাদের ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও মাওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল। তাদের ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে যারা কারাগারে আছেন তারা হলেন- মাওলানা আকবর হোসেন, আব্দুল হান্নান, আরিফ হোসেন, শাহাদাত হোসেন, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আব্দুর রউফ, ইয়াহিয়া, আবু বকর ও আবু তাহের।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত মুফতি আব্দুল হান্নানের ফাঁসি গত বছর ১২ এপ্রিল রাতে কার্যকর হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অন্যদিকে মাওলানা তাজউদ্দিন, শকিকুর রহমান, আবদুল হাই ও জাহাঙ্গীর আলম বদর এখনও পলাতক।