স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে দুইটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির মামলার পলাতক আসামি আলী হোসেন টিটু পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। নিহত টিটু ওই দুই ডাকাতির ‘মূলহোতা’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। মোহাম্মদপুরের বিল্লাহ ফার্মা ও খিলগাঁওয়ের লাজ ফার্মায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

১৩ এপ্রিল, সোমবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বসিলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। মহানগর গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আনিস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে আনিস উদ্দিন জানান, গত ১ এপ্রিল রাত পৌনে ১টার দিকে মোহাম্মদপুরের কলেজ গেটে বিল্লাহ ফার্মা ও ৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে খিলগাঁওয়ের লাজ ফার্মায় একই ভাবে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা প্রথমে একটি পিকআপে করে মূখে মাস্ক ও গামছা পেঁচিয়ে আসে। দোকানে ঢুকে চাপাতি, দা ও লোহার রডের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। এরপর থানা পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিম ও পল্লবী জোনাল টিম মামলা দুটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।


তিনি আরো বলেন, লাজ ফার্মায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে গত রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চক্রের অন্যতম সদস্য সোহেল ও তার সহযোগী আক্তার হোসেন ওরফে সোহরাব, নেওয়াজ, শাওন হোসেন ওরফে শাহীন এবং মেহেদী হাসান ওরফে রাজু। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি, দা ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত পিকআপ এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়- টিটু এই ডাকাত চক্রের মূলহোতা। তার নেতৃত্বে ডাকাতিগুলো সংঘটিত হয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, সোমবার টিটুর অবস্থান মোহাম্মদপুর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এদিন গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বসিলা তিন রাস্তা মোড় সংলগ্ন এলাকায় অভিযানে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান তিনি। ডাকাত দলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



পুলিশের তথ্য মতে, নিহত টিটুর গ্রামের বাড়ি সিলেট। তিনি রাজধানীর ডেমরায় থাকতেন। গ্রেপ্তাকৃত সোহেল ও নিহত টিটু ডাকাত দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করা অর্থের ৪০ ভাগ পেতেন এই দু’জন। আর বাকি ৬০ ভাগ টাকা অন্যদের সমানভাবে ভাগ করে দেয়া হতো। সোহেলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। তিনি মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় থাকতেন। কেরানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সোহরাবের বাড়ি শরীয়তপুরে ও শাহিনের বাড়ি বরিশালে। গ্রেপ্তার নেওয়াজ থাকতেন মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকায়।

পুলিশ আরো জানায়, ছিনতাই কাজে তারা যে দুটি মিনি ট্রাক ব্যবহার করতেন সেগুলোও ছিনতাই করা। তারা একটি ট্রাক ছিনতাই করেন শাহ আলী এলাকা থেকে এবং অন্যটি করেন আশুলিয়া-টঙ্গী রোড থেকে। ট্রাক দুটি নিয়ে সপ্তাহে তারা ৩-৪ দিন ছিনতাইয়ের জন্য বের হতেন। রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, কালসি, বেড়িবাঁধ, আদাবর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, তুরাগ ছাড়াও ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে তাদের টার্গেট ছিলো রূপগঞ্জ ও কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা।