স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলাকে জাতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। এ কাজে পুরো জাতিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এই দুর্যোগে দম্ভ, অহংকার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে ঐক্যমত্য তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। সোমবার (১৩-৪-২০২০) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে সর্বদলীয় পরামর্শসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এ কথা বলেন। সভায় জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে তা মোকাবিলা করতে সমন্বিত জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলে বিরোধী দলগুলো।

আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপি, সিপিবি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, প্লিবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কল্যাণ পার্টিসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের শীর্ষ নেতারা স্কাইপের মাধ্যমে এই সভায় অংশ নেন। গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাসদের খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রধান টিপু বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভা সঞ্চালনা করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, আপনাদের বক্তব্য আমি সমর্থন করি। জাতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমাদের এই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা করতে হবে। এককভাবে এটা সম্ভব না। সম্মিলিতভাবে করতে হলে মতবিনিময় করা, ঐকমত্য গঠন করা এবং সারা জাতিকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।এখানে কোনও সংকীর্ণ চিন্তা না করে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে হবে।যারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন তাদের প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিতে হবে। সকলকে নিয়ে এটা করা সম্ভব। এককভাবে তা কোনো দল বা কোনো সংগঠন পারবে না। আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে সকল শক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ থেকে সচেতনভাবে কাজ করছি, ভেতরের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার সেগুলোকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। আজকে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে-এটা একেবারেই খুবই অপ্রতুল। সেটাও দলীয়করণ করা হয়েছে। এগুলো থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে না পারলে এই করোনা ভাইরাস মোকাবিলা কোনোভাবে সম্ভব না। সবচেয়ে ভয়াবহ দিন আসছে সামনের দিনগুলোতে। আশা করছি, এ ব্যাপারে আপনারা সবাই একমত হবেন। আমরা সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশপ্রেমকে সামনে রেখে, সততাকে সামনে রেখে বাস্তবতাকে যদি হ্যান্ডেল করা না যায় তাহলে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বো, অনেকে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাও করছেন। তিনি বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় যেকোনও উদ্যোগে শামিল হতে আমরা প্রস্তুত আছি। এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দম্ভ, অহংকার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকেই। কারণ পুরো দায়িত্বটা সরকারের।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর রহমতে এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জাতীয় দুর্যোগ কমিটি গঠন করতে হবে। সবাইকে নিয়ে, সকল শ্রেণির মানুষকে নিয়ে, ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে, সকল সামাজিক শক্তিসহ সব পেশার মানুষকে নিয়ে এই কমিটি করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আমি অনুরোধ করবো, সরকারসহ সকল মহলকে আসুন আমরা জাতিগতভাবে একত্রিত হই এবং জাতীয় এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলা করি। আমি মনে করি, এখনো সময় আছে সকলকে একত্রিত করার।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলা একার পক্ষে নয়, ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। এটা করতে হবে। আমি এখনও আহবান জানাব সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার। সরকারি যন্ত্র-রাষ্ট্রীয় যন্ত্রসহ সবাই নিয়ে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার। একাত্তরে আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিকাল মোকাবিলাও আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।