নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, বাসাবোর পাশাপাশি নতুন করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কেরানীগঞ্জে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তার পরামর্শ, এসব এলাকায় লকডাউন আরও কঠোর করতে হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের বেশকিছু এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, বাসাবো, নতুন করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কেরানিগঞ্জ- এই এলাকাতে আরও বেশি করে মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। কাজে সেখানে লকডাউন আরও বেশি কঠিন করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করছি, জনগণ বাইরে ঘোরাফেরা করে। বাজারে ঘোরাফেরা করে, প্রয়োজন ছাড়া ঘোরাফেরা করে। আমরা সকলকে অনুরোধ করব, আপনারা বাড়িতে থাকবেন। যত বেশি বাইরে ঘোরাফেরা করবেন, এই সংক্রমণ আরও বেড়ে যাবে। আমাদের চিকিৎসা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ইউরোপ, আমেরিকাতে চিকিৎসা দিতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে আমরা যেতে চাই না। তাছাড়া আপনারা জানেন, লকডাউন বারে বারে দেয়া সম্ভব নয়। এটা আমাদেরকে ভেবে দেখার বিষয় আছে। আমরা যেন লকডাউন মেনে চলি, ঘরে থাকি, অযথা যেন আমরা বাইরে না যাই।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সারা দেশে প্রায় ২০টি পরীক্ষার ল্যাব চালু করতে সক্ষম হয়েছি। এই ল্যাবের মাধ্যমে এখন পরীক্ষা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, অনেকে পরীক্ষা করাতে চান না। পরীক্ষা থেকে দূরে থাকে। এটা একটা বিরাট সঙ্কট। আপনি নিজেও আক্রান্ত হবেন, পরিবারকে আক্রান্ত করবেন এবং চিকিৎসককেও আক্রান্ত করবেন। এ জন্যে আপনারা নিজেরা টেস্ট করুন, নিজে ভালো থাকুন এবং সকলকে ভালো রাখুন।’

তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা ইন্টারনেশনাল কনভেনশন সেন্টারে ২ হাজার শয্যা প্রস্তুত করছি। অল্প দিনের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও ১৩০০ শয্যা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দিয়াবাড়িতেও বহুতল চারটি ভবনে ১২০০ শয্যার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মোট সাড়ে ৪ হাজার শয্যার প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। করোনা রোগী যেহেতু বেড়ে যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে আমরা আরও কিছু নতুন হাসপাতাল সঙ্গে যোগ করছি। যার মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আমরা নেব। নগর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও দুটি হাসপাতালও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

সকল বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার আইসিইউসহ আমরা হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব জেলা শহরে ৫০ থেকে ১০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলো এবং তাদের মালিকরাও এগিয়ে আসছেন। তাদেরও দুটি হাসপাতাল নেয়ার কথাবার্তা চলছে। আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই দুটি হাসপাতাল প্রায় ১২০০ শয্যার।’

দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২১৯ জন। এতে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৩১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও সাতজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে।