স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসে আক্রান্তরা নিকট আত্মীয়দের কাছে অবহেলা-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে সেসব নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। আতঙ্কগ্রস্তদের কেউ কেউ ‘অমানুষে’ পরিণত হচ্ছে কি-না সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় করোনায় আক্রান্তদের প্রতি নিকট আত্মীয়-স্বজনদের অমানবিক আচরণের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, “মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অনেক সময় অমানুষেও পরিণত হয়। যখন আমরা দেখি, মায়ের সর্দি-কাশি, জ্বর হলো দেখে ছেলে, ছেলের বউ বা ছেলে-মেয়ে মিলে এমনকি তার স্বামী পর্যন্ত তাকে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে আসে। এর থেকে অমানবিক কাজ আর হতে পারে না।”

আরও পড়ুন >> ত্রাণ নি‌য়ে দুর্নী‌তিকারী‌দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

“কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটবে। এ রকম বহু কাহিনি আমরা শুনি। আমি বলব, এমন অমানবিক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নাই। কারও যদি সন্দেহ হয়, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, পরীক্ষা করান, নিজেরাও সুরক্ষিত হোন। এই প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যা যা করণীয় দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বা আইডিসিআর থেকে যে সমস্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলি মেনে চলুন।”

“কিন্তু কিভাবে একটা মানুষকে বের করে দেবেন, বা একজন ডাক্তার যে যদিও অসুস্থ লোক তাকেও এলাকা থেকে বের করে দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষের তো এ রকম অমানবিক হওয়ার কথা না। এই বিষয়গুলোও সবার দৃষ্টিতে আমি আনতে চাই।”

করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আসছে রমজানে তারাবির নামাজ ঘরে বসে পড়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন >> স্কাইপে বাম বিরোধী দলগুলোর সর্বদলীয় সভা: সমন্বিত উদ্যোগ ও জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার দাবি

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বুধবার এর আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়ায় বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। আর মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ছুঁই ছুঁই।

বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১,২৩১ জন; মৃতের সংখ্যা ৫০।