সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে এ মহাদুর্যোগে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার একাধিক হাট-বাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর করা হলেও মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশ ও সামাজিক দূরত্ব। প্রশাসন থেকে ঘোষিত জামির্ত্তা ইউনিয়নের লোকজন লকডাউন অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছেন উপজেলাবাসি।

আরো পড়ুন : সিংগাইরে স্বল্প মূল্যের চাল বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে আরও এক ডিলার আটক

জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে আগত তাবলিগ জামাতের ৪ মুসল্লি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্য সহকারি শরীরে কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়েছে। সেই সাথে জামির্ত্তা ইউনিয়নের চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক ইটভাটা শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌরসভা ও জামির্ত্তা ইউনিয়নকে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচারণা ও সচেতনতায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তারপরও ভোর থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত লোকজন উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে ভীড় করছেন। শায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সম্ভু সাহা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন সকাল থেকে ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে বলেছেন। এতে সময় কম হওয়ায় কেনা কাটায় লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ রকম চিত্র উপজেলার প্রতিটি বাজারেই। এসব বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে না পারলে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন তারা।

আরো পড়ুন : হরিরামপুরে নিজ হোটেলের পেছনে গৃহবধূর লাশ, স্বামী আটক

গত বৃহস্পতিবার (১৬এপ্রিল) সকাল ৮ টারদিকে জয়মন্টপ হাটখোলায় স্থানান্তরিত কাঁচা বাজারে দেখা গেছে, শত শত লোক গাঁয়ে গাঁ ঘেঁষে কেনা-কাটা করছেন। প্রশাসন থেকে ঘোষিত লকডাউন হওয়া জামির্ত্তা ইউনিয়নের ডাউটিয়া বাজারের অনুরুপ দৃশ্য দেখা যায়।স্থানীয় বকচর গ্রামের মোঃ বিপ্লব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এ বাজারটির জনসমাগমের ব্যাপারে আমি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেও কোন প্রতিকার পাইনি। লকডাউন ঘোষণা হওয়া জামির্ত্তা ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ধল্লা ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ওই ইউনিয়নের লোকজন কোনো ভাবেই লকডাউন মানছেন না।

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তারা প্রতিদিন আমাদের ইউনিয়নে এসে বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডে ঘুরাফেরা করেন।বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ধল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূইঁয়া বলেন, জামির্ত্তা ও আমার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে পাহারা বসিয়েও লকডাউন এলাকার লোকজন যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।ওই ইউনিয়নের কারণে তার ইউনিয়নের লোকজন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলেও তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে জামির্ত্তা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজু বলেন, ডাউটিয়া বাজারে চৌকিদার দিয়ে মাইকিং করার পাশাপাশি আমি নিজে একাধিক বার গিয়েছি। লোকজন সচেতন না হওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন : সিংগাইরে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা গ্রেফতার

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, গত দু‘দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে জনসমাগম রোধে মিটিং করে হাট-বাজারগুলোতে খোলা মাঠে বাজার স্থানান্তর করেও কাজ হচ্ছে না। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর সদর, নীলটেক, সাহরাইল ও জয়মন্টপ বাজার লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও জনদুর্ভোগ ঠেকাতে দ্রুত ভ্রাম্যমান বাজার চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।