ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাই উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দু’জন শনাক্ত হয়েছেন।তারা দু’জনেই সরকারী কমৃচারী। প্রথমবারের মত এই শনাক্তের মধ্য দিয়ে ধামরাইয়ে করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ল। আজ হস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি ধামরাই সদর ইউনিয়নের হাজীপুর পালপাড়া গ্রামে ও অপরজন ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী টিকেট কাউন্টারম্যান। হাজীপুর পালপাড়া গ্রামের আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকা ডিসি অফিসে নতুন নিযোগপ্রাপ্ত অফিস সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন।

আরো পড়ুন : ধামরাইয়ে স্বামী বেকার হয়ে যাওয়ায় অভাবে সন্তানসহ স্ত্রী’র আত্মহত্যার চেষ্টা

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা জানান, হাজীপুর পালপাড়ার করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মস্থল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ১২ এপ্রিল জ্বর নিয়ে নিজ বাড়ীতে ফেরেন। এছাড়া ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী টিকেট কাউন্টারম্যান দু’দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন। গত বুধবার তাদের দু’জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের দু’জনেরই করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। বুধবার পর্যন্ত ধামরাইয়ে ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবারই প্রথম দু’জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ডিসি অফিসের অফিস সহকারীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে ও হাসপাতালের স্টাফকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। তারা সুস্থ্য আছেন বলে জানান তিনি।

আরো পড়ুন : ধামরাইয়ে শ্বাসকষ্টে মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত দুই ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়া ডাক্তারসহ অন্যান্য স্টাফসহ মোট ২০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। তারা সকলেই সুস্থ্য আছেন। ইতিমধ্যে অল্টারনেটিভ টিম সকল স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমি যতদিন সুস্থ্য আছি ততদিন হাসপাতাল কখনো বন্ধ হবে না এবং সকলের সেবা দিয়ে যাব ইনশাহআল্লাহ।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, হাজীপুর পালপাড়া লকডাউন করা হয়েছে।
ধামরাই পৌর মেয়র গোলাম কবির বলেন, পৌর এলাকাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্টাফ ও পৌরসভার সংলগ্ন হাজীপুর গ্রামের এক ব্যক্তিসহ দু’জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় পৌরবাসী আতঙ্কিত। ফলে পৌর এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।