চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের চিতলমারীতে কালোবাজারে বিক্রি হওয়া টিসিবির ১৯২ লিটার তেলের মধ্যে ৯০ লিটার তেল উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর বাজারের আবির স্টোর থেকে এ সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য কালোবাজারে বিক্রির দায়ে আবির স্টোরের মালিক ইসমাইল কাজীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে ঘটনার মূলহোতা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মিলন মাঝি ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন >> গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও কেরানীগঞ্জে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মারুফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, উপজেলায় জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান টিসিবির লাইসেন্স নিয়ে পণ্য বিক্রি করে আসছিল। যার প্রোপাইটার মোঃ জাহাঙ্গীর উকিল।

বৃহস্পতিবার সকালে কালোবাজারে তেল বিক্রির খবর শুনে সদর বাজারের আবির স্টোরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় ওই দোকান থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কালোবাজারে বিক্রি হওয়া টিসিবির ১৯২ লিটার তেলের মধ্যে ৯০ লিটার তেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে টিসিবির পণ্য কালোবাজারে বিক্রির দায়ে আবির স্টোরের মালিক ইসমাইল কাজীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন >> ৭ দিনে দ্বিগুণ পেঁয়াজের দাম

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর ট্রেডার্সের মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর উকিল মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি গত বছর হজ্বে যাওয়ার আগে টিসিবির ওই লাইসেন্সটি পরিচালনার জন্য উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মিলন মাঝিকে দিয়ে যাই। সেই থেকে মিলন মাঝি টিসিবির পণ্য তুলে বিক্রিসহ লাইসেন্সটি পরিচালনা করে আসছে। কালোবাজারে তেল বিক্রির বিষয়টি ইউএনও স্যার আমাকে বলেছে। আমি আজই মিলন মাঝির কাছ থেকে লাইসেন্স ক্লোজ করব।’

আবির স্টোরের মালিক ইসমাইল কাজী ও দোকানের কর্মচারী আব্দুল্লাহ কাজী জানান, তারা টিসিবির ওই তেল মিলন মাঝির নিকট থেকে কিনেছেন।

আরও পড়ুন >> চাঁদপুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাসা থেকে ২ টন ত্রাণের চাল উদ্ধার

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, মিলন মাঝি দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির পণ্য কালো বাজারে বিক্রিসহ দলের পদ ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে আসছেন। তাই মিলন মাঝি ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মিলন মাঝি সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি লাইসেন্সটি পরিচালনা করছেন এটা সত্য। কালোবাজারির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।