সরকার এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে ‘সিরিয়াসলি’ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি দলের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা যেভাবে কথা বলছেন, সেই ভাষা, ভঙ্গি, বডি ল্যাংগুয়েজে এখন পর্যন্ত মনে হয় না, এ বিষয়টাকে (করোনাভাইরাস) তারা সিরিয়াসলি নিয়েছেন। তারা এখনও দোষারোপের মধ্যেই রয়েছেন এবং বিএনপি কী করছে না করছে, সেটাই তাদের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই গভীর সমবেদনা জানান বিএনপি মহাসচিব। পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে-ময়দানে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তার (ডা. মঈন উদ্দিন) মৃত্যু একটা সত্যকে উদঘাটন করেছে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর যে, একজন চিকিৎসকের নিরাপত্তা আমরা দিতে পারিনি। ইতোমধ্যে খবর এসেছে আরও কয়েকজন চিকিৎসক, সেবিকা এবং টেকনিশিয়ান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে আইসোলেশনে আছেন।’

করোনাভাইরাস ভয়াবহ অদৃশ্য দানবের মতো পৃথিবীটাকে তছনছ করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে ২১ লাখ ২৯ হাজার, ৩৫৫ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ জন। বাংলাদেশে সংক্রমিত হয়েছে ১৫৭২ জন, মারা গেছেন ৬০ জন। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল সমগ্র দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। অথচ এ বিষয়টি আমরা অনেক আগে থেকে বলে আসছি। চীনে করোনাভাইরাস শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে আমরা এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, আমরা লিফলেট দিয়েছি, মাস্ক বিতরণ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তথ্যমন্ত্রী এসব দেখতে পারেন না। আওয়ামী লীগের লোকজন বারবার বলে যাচ্ছেন, বিএনপি নাকি কোনো কাজ করছে না।’

‘আমরা ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রত্যেকটা জেলায়, উপজেলায় আমাদের দল, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন কাজ করছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ড্যাব, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বস্তি এলাকায় স্প্রে করছে, হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করছে, ত্রাণ বিতরণ করছে। সিলেটে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেছে। খুলনাতে পুরো মহানগরে, সবগুলো ওয়ার্ডে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রতিটা ওয়ার্ডে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে, কুমিল্লায় প্রতিটা ওয়ার্ডে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। রাজশাহী-বরিশালেও তাই হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল, ‘আমার ধারণা, কমপক্ষে পাঁচ লাখ পরিবারের কাছে আমাদের সাহায্য ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে এবং এটা অনগোয়িং প্রসেস। কন্টিনিউ করছে এবং কন্টিনিউ করবে যতদিন প্রয়োজন হয়।’

তিনি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমরা তো বিরোধীদল। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ওপর লেভেল পর্যন্ত কারও ব্যবসা-বাণিজ্য সেভাবে করতে দেয়া হয়নি। এর মধ্যেও আমরা দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সুতরাং তারা (সরকার) এই কথাগুলো এই জন্যই বলেন যে, তাদের ভয়ংকর ভুলগুলো, মারাত্মক ভুলগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য।’

‘আমরা সর্বশক্তি নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি, জনগণের পাশে থাকব’-বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।