দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ১০১ জন। একদিনে নতুন করে আরও করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৪৯২ জন এবং করোনায় মোট শনাক্ত হলেন দুই হাজার ৯৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১০ জন, এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ ৮৫ জন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য বুলেটিনের অনলাইনে একথা জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘গতকালের তুলনায় আজ শনাক্ত অনেক বেশি। মৃত্যু ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করেছি ২ হাজার ৭৭৯টি নমুনা, মোট ২৬ হাজার ৬০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৪৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে পুরুষ ৮ জন, নারী দুজন। মৃত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার ৫ জন, ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে ৪ জন এবং নরসিংদীতে একজন।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটা প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া কিশোরগঞ্জে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নরসিংদীতে ৬ শতাংশ। ঢাকায় এবং নারায়ণগঞ্জে আগের মতোই। অনেক বেশি আছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, মৃত ১০ জনের মধ্যে বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে চার জন, ৫১ -৬০ বছরের মধ্যে চার জন এবং ৪১ থেক ৫০ বছরের মধ্যে দুজন। মৃত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার ৫ জন, ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে ৪ জন এবং নরসিংদীতে এক জন।

‘গতকালের থেকে আজ নমুনা সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি এবং পরীক্ষা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৫৭ জনকে, এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে রাখা রোগীর সংখ্যা ৭১৩।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪০ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৫৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩০ হাজার ৮০৯ জন, এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৬২৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৭০ জন, এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫ হাজার ৫৮৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টিন ৩১ হাজার ৭৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ২২৪ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৮৪৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে মোট হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৭৫ হাজার ৭৪৭ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে ৪ হাজার ৬৫৫ জন। মোট কোয়ারেন্টিন আছেন ৮০ হাজার ৪০২ জন।’

প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্তের অষ্টম সপ্তাহে আছে বাংলাদেশ।