করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ছাড়পত্র দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)  এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ওষুধটি রফতানি করার অনুরোধ জানায় মালয়েশিয়া।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া তাদের দেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে এ ওষুধটি বাংলাদেশের কাছে চেয়েছে। দেশটিতে যদি আমরা কিছুটা পাঠাই তাহলে আমাদের কোনও সমস্যা হবে না। তবে আমাদের প্রয়োজন মিটিয়ে তবেই রফতানি করতে হবে। এ ওষুধের রফতানি শিগগিরই শুরু হতে পারে।

দেশে কোন কোন প্রতিষ্ঠান এ ওষুধ উৎপাদন করে এবং এই ওষুধ কী কাজে লাগে প্রশ্নে তিনি  বলেন, আমাদের দেশে ইনসেপ্টা, স্কয়ার, ডেল্টাসহ অনেক কোম্পানি এই ওষুধ তৈরি করছে এবং নতুন করে উৎপাদনের জন্যও বলা হয়েছে। তবে এ ওষুধ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, করোনার জন্য যে ন্যাশনাল ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন রয়েছে সেখানে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে বলে বলা হয়েছে এবং যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের চিকিৎসায় এটা ব্যবহারও হচ্ছে।

এর আগে করোনাভাইরাসের সঙ্গে ম্যালেরিয়ার উপদ্রব থাকায় বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসাবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট রফতানির ওপর বাংলাদেশের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করে দেশটি। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা এক পত্রে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসামুদ্দিন তুন হুসেন এ অনুরোধ জানান। এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ছাড়পত্র দেয়।

চিঠিতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট মালয়েশিয়ায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার একত্রে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মালয়েশিয়ায় এই ওষুধ পাঠানোয় আমাদের কোনও ঘাটতি তৈরি হবে কিনা প্রশ্নে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান  বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে এ ওষুধ নিতে চায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটা পাঠানোর জন্য ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তারা জানিয়েছেন পাঠানো যাবে। আর মালয়েশিয়াকে যদি কিছু পরিমাণ পাঠাই তাহলে আমাদের কোনও সমস্যা হবে না। তবে আমাদের প্রয়োজন মিটিয়েই রফতানি করতে হবে।