শ্রমিকদের রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হাওর অঞ্চলের সব সরকারি বিদ্যালয় খুলে দেয়া হচ্ছে। ধান কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দিনভর কাজ করে রাতে যাতে বিদ্যালয়ে ঘুমাতে পারেন, সেজন্য সকল জেলার হাওরের বিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধান কাটা কৃষকদের হাওর অঞ্চলের সরকারি বিদ্যালয়ে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য এসব অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে তালা দেয়া থাকলে তা খুলে দিতে হবে। বিষয়টি প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানা কর্মকর্তাদের মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সচিব আকরাম আল হোসেন মঙ্গলবার  বলেন, ‘সারাদেশে পাকা ধান কাটতে শ্রমিকদের কাজ করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাওর অঞ্চলে আসতে পারছে না শ্রমিকরা। ফলে সরকারি উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ধান কৃষকের ঘরে তুলতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী একমাস চলবে ধান কাটার কাজ। তাই শ্রমিকদের রাতে থাকার জন্য হাওর এলাকার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

ধান কাটা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই আগাম বন্যার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। হাওর এলাকায় বছরে একবার মাত্র ফসল ফলে। তাই এই ফসল আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে বিভিন্ন সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।