করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে অনেকে পেটের দায়ে পেশা বদলে সবজির ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। এসব ব্যবসায়ীর অনেকেই ভ্যানে মহল্লায় মহল্লায় সবজি বিক্রি করছেন। ফলে প্রতিটি মহল্লার গলিতেই ভ্যানে বিক্রি করা সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এরপরও সবজি কিনতে অনেকে বাজারে গিয়ে ভিড় করছেন। এভাবে ভিড় করায় করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে।

ঝুঁকি বাজারে ভিড় করার কারণ হিসেবে ক্রেতারা বলছেন, মহল্লার গলির ভ্যানে যে সবজি পাওয়া যায় তার মান বাজারের সবজির থেকে খারাপ। অথচ দাম বাজারের থেকে বেশি। আবার ভ্যান থেকে সব ধরনের সবিজ পাওয়া যায় না। তাছাড়া ভালো মাছ কিনতে বাজারে আসাই লাগে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রামপুরা ও মালিবাগ অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ ও সবজি উভয় ধরনের দোকানে ক্রেতারা ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। এসব ক্রেতার মধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ে বিন্দুমাত্র সচেতনতা নেই। একজন আর একজনের শরীর ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। অথচ রামপুরা ও মালিবাগের প্রতিটি মহল্লার গলিতে ভ্যানে সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌ-বাজারে বাজার করতে আসা ফাতেমা বলেন, ‘আমি প্রতিদিন বাজার করতে আসি না। সপ্তাহে একদিন আসি। বাসার সবজি ফুরিয়ে গেছে, তাই আজ বাজারে এসেছি। এক সপ্তাহের সবজি কিনে নিয়ে যাব।’

মহল্লার ভ্যান থেকে সবজি না কিনে বাজারে আসার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভ্যানের সবজি সব সময় ভালো পাওয়া যায় না। তাছাড়া দামও একটু বেশি। এ কারণে কিছু টাকা সেভ করার জন্য বাজারে আসি সবজি কিনতে।

bazar

এভাবে বাজারে আসেন, করোনাভাইরাসের ভয় করে না? এমন প্রশ্ন করলে ফাতেমা বলেন, ভয় করে না তা বলব না। তবে আমাদের এদিকে এখনও কারও করোনাভাইরাস হয়েছে এমন শুনিনি। তাছাড়া সবজি পাওয়া গেলেও মহল্লায় কিন্তু মাছ তেমন পাওয়া যায় না। মাছ কিনতে বাজারে আসতেই হয়।

এদিকে প্রতিটি বাজারেই সবজির দোকান থেকে মাছের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা যায়। প্রতিটি মাছের দোকানই ক্রেতাদের একজনের সঙ্গে আর একজনের শরীর ঘেঁষে মাছ কিনতে দেখা যায়।

ক্রেতাদের এমন আচরণের বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী লিটন বলেন, আমরা যতই ফাঁকা হয়ে দাঁড়াতে বলি কেউ কথা শোনে না। সবাই একসঙ্গে এসে দাঁড়ায়। মাঝে মাঝে পুলিশ এসে দাবড়ানিও দেয়। তারপরও কিছুই হয় না। পরের দিন ঠিকই আবার সবাই একসঙ্গে এসে ভিড় করে। এতে আমরাও ভয়ে থাকি। কিন্তু পেটের দায়ে মাছ বিক্রি করতে আসি। মাছ বিক্রি না করলে পরিবারের মুখে খাবার জুটবে না।

রামপুরা জামতলার একটি ভ্যান থেকে সবজি কেনা মমিনুল বলেন, যে বাজারে যাই সেখানেই প্রচণ্ড ভিড়। এই ভিড়ে যেতে আমার ভয় করে। তাই দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভ্যান থেকে সবজি কিনি। এরা দাম একটু বেশি নেয়, তারপরও বাসার কাছ থেকে তো সবজি কিনতে পারি।

ভ্যানে সবজি বিক্রি করা মিলন নামের সবজি বিক্রেতা বলন, আগে আমি মাল আনা-নেয়ার জন্য ভ্যান চালাতাম। করোনার কারণে এখন কাজ বন্ধ। তাই সবজি ব্যবসায় নেমেছি। কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনে এনে মহল্লায় মহল্লায় বিক্রি করি। সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করি। যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবার নিয় কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছি। সত্যি কথা বলতে করোনাভাইরাসের কারণে আমরা খুব কষ্টে আছি। ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বের হচ্ছি। কখন নিজেই করোনায় আক্রান্ত হই কিছুই বলা যায় না।