সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাল, ত্রাণসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা আত্মসাতের অভিযোগে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই সাত মামলায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও পলাতক রয়েছে তিন আসামি।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুদক চেয়ারম্যানকে কমিশন গোয়েন্দা শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে দুদক ত্রাণসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির কার্যক্রম নজরদারি শুরু করে। ১২ এপ্রিল বগুড়ায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপরে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সর্বশেষ মামলাটি দায়ের করা হয় নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

কমিশনের গোয়েন্দা শাখা থেকে সারাদেশে অভিযানের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কোনোপ্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এখন পর্যন্ত যেসব মামলা করা হয়েছে সেগুলোর দ্রুত তদন্ত শেষ করতে হবে। দুদকের গোয়েন্দা শাখা, সব সমন্বিত জেলা কার্যালয় এবং সব বিভাগীয় কার্যালয় ত্রাণ কার্যক্রমের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কার্যক্রমের প্রতি নিবিড় দৃষ্টি রাখবে। যাকেই ত্রাণ আত্মসাতে সম্পৃক্ত পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আমলে নিয়ে আসতে হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের প্রচলিত আইনে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ত্রাণ আত্মসাতের সাহস না পায়।’

গত ১২ এপ্রির প্রথম মামলাটি হয় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ওএমএস ডিলার মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধ। সরকারের ৭৭০ কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামি পলাতক রয়েছে।

দ্বিতীয় মামলাটি হয় ১৩ এপ্রিল। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সেকেন্দার মিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড টাকার বিনিময়ে বিতরণ করেছেন। আসামি কারাগারে রয়েছে।

তৃতীয় মামলাটি হয়েছে ১৪ এপ্রিল। আসামি আবু বকর সিদ্দিকী। তিনি মানিকগঞ্জ সিংগাইর এর ডিলার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধল্লা বাজার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৮৭০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। তাকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

১৪ এপ্রিল আরও একটি মামলা হয়। এ মামলায় আসামি করা হয় মানিকগঞ্জের সিংগাইর এর ডিলার মো. রফিকুল ইসলামকে। তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। তাকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে জেল হাজতে আছেন।

পঞ্চম মামলাটি হয় ১৬ এপ্রিল। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ৬নং কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দীন পল্টুকে আসামি করে মামলাটি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ২৭ হাজার ৫শ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

১৬ এপ্রিল বরিশালে আরও একটি মামলা হয়। মামলায় আসামি করা হয় বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জের ১ নং আন্দারমানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সহিদুল ইসলামকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বলা হয়েছে, তিনি ৩ হাজার ৮শ ৪০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। আসামি কাজী সহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

সপ্তম মামলাটি হয় ২১ এপ্রিল। আসামি করা হয় নড়াইলের কালিয়া থানার ১১ নং পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জার্জিদ মোল্যাকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২৫৫০ কেজি সরকারি চাল আত্মসাৎ করছেন। আসামী জার্জিদ মোল্যা পলাতক রয়েছেন।