করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ত্রাণ এবং ভিজিডির (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) চাল চুরির ঘটনায় সরকার খুবই বিব্রত বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এমন সময়েও যারা জনগণের হক আত্মসাৎ করে, তাদের মতো জঘন্য মানুষ আর হতে পারে না। তবে চালচোর কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

ত্রাণের চাল চুরি প্রসঙ্গ নিয়ে কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এমন সময়ে চাল চুরির ঘটনা অবাক করছে। সরকার রীতিমতো বিব্রত। মানুষ জীবন বাঁচাতে মরিয়া। মহামারি কোনো না কোনোভাবে প্রতিটি মানুষের মনে দাগ কাটার কথা। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। মানুষের ভালোবাসার কাছে অর্থের কোনো মূল্য নেই, তা করোনা প্রমাণ করে দিচ্ছে। অথচ সেই করোনাকালীন পরিস্থিতিকে উপলক্ষ করেই কিছু মানুষ অমানুষের মতো পরিচয় দিচ্ছেন। গরিবের হক মেরে খাচ্ছেন। এরা কোনোভাবেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

‘সরকারদলীয় লোকেরাই চাল চুরির সঙ্গে যুক্ত’-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চোরের যেমন ধর্ম থাকে না, তেমনি দলও থাকে না। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করবেই। তবে সাড়ে ৬১ হাজার জনপ্রতিনিধির মধ্যে এমন চুরির সঙ্গে যুক্ত হাতেগোনা কয়েকজন। আবার কিছু ঘটনা ব্যক্তি বা দলীয় প্রতিংসার শিকারও। তবে যে বা যারাই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত তারা ছাড় পাবে না।’

‘চাল চুরি ঠেকাতে প্রশাসন অসহায় কি-না’-এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ঠিক তা মনে করি না। প্রশাসনের পক্ষে সব মনিটরিং করা সম্ভব না, যদি না মানুষের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হয়। যারা মানুষের মধ্যে ভালো কাজ করছেন, তারাও এই সমাজেরই মানুষ, আবার যারা চাল চুরি করছেন, তারাও এ সমাজেরই মানুষ। আইন বা শক্তি দিয়ে অপকর্ম ঠেকানো যায় না। মানুষ তার দায় উপলব্ধী থেকেই অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারেন।’

‘তবে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কঠিন অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই এই চোরেরা ধরা পড়ছেন, শাস্তি পাচ্ছেন। অন্যরাও উপযুক্ত শাস্তি পাবেন বলে বিশ্বাস করি’-বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।