গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও ছাড়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম।

শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে বুধবার (২২ এপ্রিল) শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো. মেজবাহুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইমেলে আবেদনটি পাঠান।

মো. নজরুল ইসলাম রনি  বলেন, ‘করোনা সংকটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে। সে কারণে ইমেইলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। এমমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও কোড পাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো আবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে এমপিওভুক্তির জন্য প্রায় ৯০০০ (নয় হাজার) নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে। এই আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর আপনার নির্দেশে ২৭৩০টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য তালিকাভুক্ত করা হলেও আজও সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও কোড দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ছয় মাসেও এর কোনও অগ্রগতি নেই।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ হাজার নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী করোনার প্রভাবে চরম আর্থিক কষ্টে মানবেতন জীবনযাপন করছেন। তারা তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারছেন না। তাদের ঘরে খাবার নেই, ওষুধ নেই। আপনার নির্দেশ মোতবেক তারা সবসময় সব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন। বর্তমানে জেলা ও উপজেলায় ত্রাণ কাজে অংশ নিচ্ছেন এবং কৃষকদের পাশে থেকে ধান কাটতে সহযোগিতা করছেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই নন-এমপিও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিও কোড দেওয়া না হলে এবং টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা না করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকবে না।

আপনি আমাদের অভিভাবক, আপনি বিশ্ব মানবতার মা। আপনি নন-এমপিও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে আপনার বিশেষ ক্ষমতাবলে এমপিও কোড প্রদানের নির্দশনা দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করলে আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর ২৩ অক্টোবর একযোগে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ওই বছরের ১২ নভেম্বর ছয়টি এবং ১৪ নভেম্বর একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। নতুন এমপিও পাওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের গত বছরের (২০১৯) জুলাই থেকে নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু, এমপিও তালিকা প্রকাশ করলেও বেতন ছাড়ের আদেশ জারি করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।