আইপিএলের গত কয়েক আসর ধরেই তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ও বটে। তার অধীনে এখনও শিরোপার দেখা পায়নি কলকাতা। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিচারে বেশ ভালোই বলা চলে দীনেশ কার্তিকের অধিনায়কত্ব।

কিন্তু তার মনের মধ্যে রয়েছে অন্য আরেক ইচ্ছা। আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই চাইছেন নিজ রাজ্য প্রদেশের দল চেন্নাই সুপার কিংসে খেলতে। কলকাতাসহ ভিন্ন ছয় দলে খেললেও কখনও চেন্নাইয়ে খেলা হয়নি তামিল নাড়ুতে বেড়ে ওঠা কার্তিকের।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় যেমন মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়ায় কাটিয়ে দিয়েছেন, তেমনি আইপিএলের ক্ষেত্রেও মূলত ধোনি থাকায়ই চেন্নাইয়ে খেলার ইচ্ছা পূরণ হয়নি কার্তিকের। সে আক্ষেপের গল্পই তিনি শুনিয়েছেন ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে।

২০০৮ সালে যখন আইপিএলের প্রথম আসরের নিলাম হয়, তখন ধোনি আর কার্তিক পাশাপাশিই বসেছিলেন অস্ট্রেলিয়াতে। কার্তিক ভাবছিলেন যেহেতু তিনি তামিল নাড়ুর তখনকার সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়, তাই তাকেই চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক করা হবে। কিন্তু সব হিসেব বদলে দিয়ে চড়া মূল্যে ধোনিকে কিনে নেয় চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজি।

কার্তিক বলেন, ‘২০০৮ সালে যখন নিলাম হয়, আমি তখন অস্ট্রেলিয়াতে। নিলামের ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম যে তামিল নাড়ু থেকে ভারতের হয়ে খেলা সবচেয়ে বড় ক্রিকেটার আমি, আমাকে চেন্নাইতেই নেবে। আমার মাথায় ঘুরছিল, তারা আমাকে অধিনায়ক বানাবে নাকি না?- এই প্রশ্নটা/’

কিন্তু কার্তিককে নেয়নি চেন্নাই। বরং আরেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ধোনিকে সেই নিলামের সর্বোচ্চ মূল্য ৬ কোটি রুপিতে কিনেছিল দলটি। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতি আসরেই চেন্নাইয়ের অধিনায়কত্ব করছেন ধোনি। আর কার্তিক ১৩ বছর ধরেই অপেক্ষা করছেন চেন্নাইয়ের হয়ে খেলার, কিন্তু একবারও পাননি সেই ডাক।

তিনি বলেন, ‘তারা (চেন্নাই) প্রথমেই নিলো ধোনিকে, ১৫ লাখ ডলারের বিনিময়ে। সে তখন ঠিক আমার পাশেই বসা। কিন্তু আমাকে বলেইনি যে চেন্নাই তাকে নেবে। হয়তো সে নিজেও জানত না। তবে এটা আমার হৃদয়ে ছুঁড়ি চালানোর মত ছিল। তবুও ভেবেছিলাম পরে হয়তো আমাকে নেবে। কিন্তু ১৩ বছর হয়ে গেল, এখনও আমি অপেক্ষায় আছি চেন্নাইয়ের সেই ডাকের জন্য।’