চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের ইতিহাস যাচাই করে দেখা গেছে নগরের পাহাড়তলী থানা ও পাশের দুই থানা এলাকায় এবং সাতকানিয়া উপজেলায় অধিকাংশ করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছিলেন। বুধবার আরও তিনটি নতুন এলাকায় তিন করোনা রোগী শনাক্ত হন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন এলাকায় রোগী নির্বাচন হলেও আক্রান্তদের সূত্র পুরোনো।

এদের মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন নাজিরহাট হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারের এক চিকিৎসক। এছাড়া নগরের ঘনবসতিপূর্ণ লালখান বাজারের হাইলেভেল রোড ও বালুচড়ায় করোনা আক্রান্তদের একজন পুলিশ সদস্য ও অপরজন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। এসব বিষয়ে  নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি।

জানা গেছে, আক্রান্ত চিকিৎসক ২৯ বছর বয়সী এক যুবক। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনে নাজিরহাট হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারে কাজ করতেন। তিনি নাজিরহাটে বসবাস করলেও তার বাড়ি দক্ষিণ চট্টগ্রামের করোনা ক্লাস্টার সাতকানিয়ায়। তিনি গত জানুয়ারি মাসে ফটিকছড়িতে যোগদান করেন।

অনেকে আশঙ্কা করে বলছেন, সম্প্রতি ওই চিকিৎসক সাতকানিয়া গিয়েছিলেন কি-না বা সেখান থেকে কেউ তার নাজিরহাটের বাড়িতে এসেছিলেন কি-না তা যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় যদি তিনি স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হন তবে হাসপাতালে আগত রোগীদের ইতিহাস পর্যালোচনা জরুরি। এর আগে বাঁশখালীতে এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন।

নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইলিয়াছ চৌধুরী  বলেন, ‘ফটিকছড়িতে আক্রান্ত চিকিৎসক নাজিরহাট হাসপাতালের আউটডোরে ফ্লু কর্ণারে কাজ করতেন। গতকাল রাতেই তাঁকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তা ট্রেস করা যায়নি। ইতোমধ্যে নাজিরহাটে তার বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া আজ ও আগামীকাল আমাদের হাসপাতালের আউটডোরে সেবা বন্ধ থাকবে।’

নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম নগরে নতুন আক্রান্ত দুই জনই নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্য ও অপরজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। এর আগে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে তিন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। লালখান বাজার এলাকায় করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্য গত ১৭ এপ্রিল থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে ১৯ এপ্রিল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসেন তিনি। বুধবার (২২ এপ্রিল) নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

এছাড়া বালুছড়া কুলগাঁও এলাকার আক্রান্ত নারীও ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। আক্রান্ত নারীও একটি এনজিওর মাইক্রো ক্রেডিট প্রোগ্রামে চাকরি করেন বলেও জানা গেছে। এরই মধ্যে লালাখান বাজার পশ্চিম হাইলেভেল রোডের বেশ কয়েকটি ভবন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, করোনা আক্রান্ত নারী এনজিও কর্মী হওয়ায় তাঁর কাজের ক্ষেত্র বায়েজিদ এলাকার শেরশাহ, কুঞ্জছায়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৬ মার্চ থেকে জ্বরে আক্রান্ত হলেও সর্বশেষ গত ৩১ মার্চেও তিনি শেরশাহ এলাকায় অফিসে করেছেন। এরপর থেকে বাসাতেই ছিলেন। ৩১ মার্চ টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করালে ফলাফল নেগেটিভ আসে। তবে পরবর্তীতে ওই নারীর স্বামীর কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ২০ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী দুজনের নমুনা নেয়া হয়। বিআইটিআইডি থেকে টিম এসে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। নমুনা পরীক্ষায় গতকাল রাতে স্ত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি জানান, নতুন ৩ জনসহ এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা আক্রান্ত শনাক্তের মোট সংখ্যা ৪৩ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মারা গেছেন ৫ জন। ৪৩ জন আইসোলেশনে ভর্তি আছেন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন ৭ জন।