খেলোয়াড়দের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক সমস্যা নতুন নয়। এই সমস্যার কারণে ক্যারিবীয় ক্রিকেট ঐতিহ্য আজ বিলিন হওয়ার পথে। এবার আরও একবার সমস্যা সৃষ্টির ইঙ্গিত মিলে যাচ্ছে। কারণ, জানুয়ারি থেকে গত চারমাসে ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের কোনো ম্যাচ ফি পরিশোধ করেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।

তবে, ম্যাচ ফি-ছাড়া বাকি সব কিছুই ক্লিয়ার করা আছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি না পাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে নিয়েছে তারা। নগদ অর্থের সঙ্কটের কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিডব্লিউআই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ওয়েন লুইস ক্রিকইনফোকে জানান, ‘মাসিক বেতন (বিভিন্ন ভাতাসহ) সব কিছুই এখনও পর্যন্ত পরিশোধ করা আছে। তবে সমস্যা যেটা রয়েছে গেছে, সেটা হচ্ছে রিজিওনাল ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলা খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি পরিশোধ করা হয়নি। এরই মধ্যে মোট আট রাউন্ড ম্যাচ খেলা হয়েছে।

প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যে রিপোর্ট তৈরি করেছে সেখানে বলা আছে, শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররাই নন, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও তাদের ম্যাচ ফি পাননি। জানুয়ারিতেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচর ওয়ানডে এবং দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল। এরপর ফেব্রুয়ারি-মার্চে ছিল শ্রীলঙ্কা সফর। সেখানেও খেলা হয়েছে তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি টি-টোয়েন্টি। দুই সিরিজের কোনো ম্যাচ ফি’ই ক্রিকেটারদের দেয়া হয়নি।

নারী ক্রিকেট দলেরও একই সমস্যা। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে বিশ্বকাপের যে চারটি ম্যাচ খেলেছে নারী ক্রিকেট দল, সেগুলোরও ম্যাচ ফি দেয়া হয়নি তাদেরকে।

সিডব্লিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ নিশ্চয়তা দিয়েছেন, খুব শিগগিরই খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি’গুলো দিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিকভাবে খুব কঠিন সময় পার করছে। সব কিছু ঠিকভাবে পরিচালনা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আমরা খেলোয়াড়দের পাওনার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করার চেষ্টা করছি।’

২০১৮ সালে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠ সিরিজ আয়োজন করে নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের বিশাল লস হয়েছে। সেই লস পোষাতে গিয়েই খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি পরিশোধে এমন বিলম্ব হচ্ছে বলে জানলেন দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে যখন আমরা বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ আয়োজন করেছি, তখন আমাদের ২২ মিলিয়ন (২ কোটি ২০ লাখ) ইউএস ডলার লস হয়েছে। দুই সিরিজের জন্য আমাদের যে মিডিয়া কন্ট্রাক্ট ছিল, সে চুক্তিতে আমরা কম পেয়েছি প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার।’

প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের এখনও পর্যন্ত যে সময়টা গেছে, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং রিজিওনাল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কোনো ম্যাচেই খেলোয়াড়রা ম্যাচ ফি পাননি।

মার্চ মাসে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড ১০ রাউন্ডের মধ্যে ৮ রাউন্ড হওয়ার পর চ্যাম্পিয়নশিপ বন্ধ করে দেয় এবং বার্বাডোজকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে। প্রতিটি রিজিওনাল ক্রিকেটারকে অন্যসব অ্যালাউন্স বাদেও ম্যাচপ্রতি ফি দেয়ার কথা ১৬০০ ডলার করে।