বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৬০ বছর বয়সী এক প্রবীণের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে তার মাধ্যমে আইসিইউতে থাকা আরও তিন রোগীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওযার পরিপ্রেক্ষিতে বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল থেকে আইসিইউতে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের খুব বেশি প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল কিংবা অন্য কোনো হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক নাজিমুল ইসলাম।

তিনি জানান, খুব সম্ভবত গত ১৫ কিংবা ১৬ এপ্রিল ৬০ বছর বয়সী প্রবীণ রোগী নেফ্রোলজি বিভাগের অধীনে কেবিন ভর্তি হন। পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে ভর্তির আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না সেজন্য বিএসএমএমইউ’তে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে গত ২১ এপ্রিল পুনরায় বিএসএমএমইউতে তার করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হলে পজিটিভ শনাক্ত হন।

যুগ্ম পরিচালক আরও জানান, এরপরই নিয়মানুযায়ী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদেরও নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে আরও তিন জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে সব রোগীকেই পরে করোনাভাইরাসের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে, প্রবীণ ওই রোগী এ মাসের শুরুতে প্রথমে এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগে, পরবর্তীতে সিসিইউ এবং তারপর করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনরা স্বেচ্ছায় হাসপাতাল থেকে চলে গিয়ে বিএসএমএমইউতে নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফলাফল দেখিয়ে ফের ভর্তি করান। বারডেম হাসপাতালের ৪০ জনেরও বেশি চিকিৎসক ও র্নাস ওই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।