একদিকে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকে বলা হচ্ছে কারখানার খোলার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, অন্যদিকে শ্রমিকদেরকে আগামীকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) থেকে কারখানায় আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন কারখানা মালিক। এমন পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা। এরইমধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলছেন, কারখানা থেকে তাদেরকে ফোন দিয়ে আসতে বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পোশাক কারখানার মালিকদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, তাদের অফিস করতে বলা হয়েছে, কারণ, আগামীকাল রবিবার খুলছে পোশাক কারখানা। তাই বাধ্য হয়ে অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করছেন পোশাক শ্রমিকরা।  আবার অনেকে দ্বিধার মধ্যেও আছেন, ঢাকায় ফিরবেন কিভাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেশিরভাগ শ্রমিকের।  আবার গত ৪ এপ্রিলের মতো ঢাকায় গিয়ে বিপাকে পড়বে না কিনা এই চিন্তায় পড়েছেন বেশিরভাগ শ্রমিক। এসব বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন : ১৭ ব্র্যান্ডের পণ্য নিষিদ্ধ করলো বিএসটিআই

তবে শ্রমিকরা বলছেন, আগামীকাল থেকে ঢাকা ও আশেপাশের শিল্প কারখানা ও পোশাক কারখানা খুলবে। কাজে যোগ দিতে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, রিকশা, পায়ে ঠেলা ভ্যান ভাড়া নিতে হয়েছে। কেউ কেউ পায়ে হেঁটেই রওনা হয়েছে গন্তব্যের উদ্দেশে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার খবরে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন শ্রমিকরা। ৪ এপ্রিলও রাস্তাগুলোতে শ্রমিকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে, টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে, নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে হঠাৎ করে মানুষের ঢল নামে। এইসব শ্রমিক ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাত ১০টার দিকে বিজিএমইএ থেকে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে চরম নাজেহাল হওয়ার পাশাপাশি ও অনেক শ্রমিক হয়রানি শিকার হন। অনেকেই বলছেন, পোশাক কারখানা খুলতে হলে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে তারপর খুলতে হবে।

আরো পড়ুন : পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করলে এক…

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  ড. জাহিদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে না পারলে কোনও কারখানা খুলতে দেওয়া উচিত না। কারণ, করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পোশাক শ্রমিকরা।

জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. রশীদ ই মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্যবিধি যদি মানতে না পারেন, তাহলে কারখানা খোলা উচিত হবে না।

এদিকে পোশাক কারখানা খোলার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে গ্রাম থে‌কে শ্রমিকদের ফি‌রি‌য়ে না আনার অনুরোধ ক‌রে‌ছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অর্থনীতি‌ চলমান রাখতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পোশাক কারখানা খোলা রাখার নির্দেশনা দে‌বে বিজিএমইএ। সেই নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত যেসব শ্রমিক গ্রামে আছেন, তাদের ঢাকায় আসতে না বলার জন্য অনুরোধ করা হলো।

পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক পোশাক কারখানা খোলার নির্দেশনা দেওয়া হবে জা‌নি‌য়ে বিজিএমইএ বল‌ছে, শুরু‌তে কারখানা সীমিত আকারে খোলা রাখা যাবে। ফলে প্রথম ধাপে কারখানার আশপাশে যেসব শ্রমিক আছেন, তাদেরই কাজে যোগদান করতে বলা যাবে। মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় কোনও শ্রমিক ছাঁটাই না করার অনুরোধ করে‌ছে পোশাক মা‌লিক‌দের সংগঠন‌টি। এছাড়া বিরূপ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসা হলে বিজিএমইএর পক্ষ থে‌কে কোনও সহায়তা করা হ‌বে না।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী  বলেন, সরকার পোশাক কারখানা বন্ধ করতে বলেনি। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা খোলা রাখতে বলেছে। সে কারণে আমরা মনে করছি, এক সঙ্গে সব চালাতে গেলে সমস্যা হবে, তাই আমরা ভাগভাগ করে কারখানা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, আগামী ৪ মে থেকে দেশের সব কারখানা খোলা থাকবে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে এসব কারখানাগুলো চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের কোনও শ্রমিক আনতেও নিষেধ করেছি। এ ব্যাপারে বিজিএমইএ মালিকদেরকে চিঠি দেবে। সালাম মুর্শেদী আরও বলেন, ঢাকার বাইরের শ্রমিককে না আনার ব্যাপারে কঠোরভাবে বলা আছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা মেনে আমরা কারখানা খুলতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আগামীকাল রবিবার থেকে শুধু ঢাকা শহরে ভেতরের ৮টি স্থানের কারখানা গুলো চালু হবে। ঢাকার ভেতরকার শ্রমিক দিয়েই এই কারখানা চালানো যাবে। এছাড়া ২৮ তারিখ থেকে খোলা হবে আশুলিয়া থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত সব কারখানা। নারায়ণগঞ্জসহ কাচপুর, রূপগঞ্জ এলাকার কারখানা চালু হবে ৩০ তারিখ থেকে। ২, ৩, ৪ মে টঙ্গি থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কারখানা চালু হবে।