পঞ্চগড় প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের কারণে টমেটো বিক্রি করা নিয়ে সমস্যায় পড়া চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। চাষিদের উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করার জন্য ঢাকা, শরিয়তপুর ও জামালপুর থেকে বেপারিদেরকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পঞ্চগড়ে আনেন তারা ।

বেপারীরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থেকে তাদের প্রতিনিধি দ্বারা টমেটো কেনা শুরু করে দিয়েছেন। এতে কিছুটা বেড়ে গেছে টমেটোর দামও। করোনা ভাইরাসের কারণে টমেটো বিক্রি করা নিয়ে বিপাকে পড়েন চাষিরা। এমন অনেক চাষীর ক্ষেতেই নষ্ট হতে শুরু করেছে টমেটো। বাজারে ২ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করে তাদের ভ্যান ভাড়াও উঠত না । বাইরে থেকে বেপারিরা টমেটো কিনতে আসতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়। টমেটো চাষীদের কথা বিবেচনা করে এগিয়ে আসে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

তারা ঢাকা,শরিয়তপুর ও জামালপুর থেকে বেপারীদেরকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পঞ্চগড়ে নিয়ে আসে। পঞ্চগড়ে এনেই তাদের একটি আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। কোয়ারেন্টিন শেষ হলেই তারা মাঠে গিয়ে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে টমেটো কিনতে শুরু করবেন। এরমধ্যেই তারা স্থানীয় প্রতিনিধি দিয়ে টমেটো কেনা শুরু করে দিয়েছেন। বেড়ে গেছে টমেটোর দামও। আগে ১’শ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩’শ টাকা মণ। পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকা থেকে টমেটো নিয়ে ট্রাকগুলো রওনা হয়েছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে।

আরও পড়ুন >> ৮০ টাকার আদা খাতুনগঞ্জে ২৫০, খুচরা বাজারে ৩৫০

এদিকে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক আবু হানিফ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী টমেটোর বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকার কৃষক আফজাল ও মানিক জানায়. পঞ্চগড়ে বেপারিরা আসায় আমরা টমেটোর দাম একটু পাচ্ছি। লকডাউনের কারণে বেপারিরা পঞ্চগড়ে আসতে পারে নাই। প্রশাসনের সহযোগিতায় টমেটোর বেপারিদের আনা হয়েছে। তারা আসায় আগের তুলনায় টমেটোর দাম একটু বেড়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা এলাকার আব্দুর রশিদ জানান, এবার আমি ১১ বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছি। কোন পাটি না থাকায় সাড়ে ৬ টায় বিঘা জমিতে টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পাটি পঞ্চগড়ে আসছে টমেটোর দাম আমরা কিছুটা পাচ্ছি। তবে আরেক টু দাম বেশি হলে খুশি হতাম।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ফুলকি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পঞ্চগড়ে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনা মহামারীর জন্য লকডাউন চলছে জেলার মধ্যে। স্বাভাবিকভাবে অন্য জেলা থেকে ট্রাক ও পাইকাররা আসতে পারছে না। চাষীদের উৎপাদিত সবজী নষ্ট হচ্ছে বাজারে বিক্রি করতে পারছে না। এই খবরটা যখনই আমাদের কাছে এসেছে। তখনই আমরা জেলাতে করোনা প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে, আমরা বসেছি এটা থেকে আমাদের উত্তরণের উপায়গুলো আমরা খুজে পেয়েছি। শরিয়তপুর, ঢাকা ও জামালপুর থেকে বেপারিদেরকে পঞ্চগড়ে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা টমেটো কিনতে শুরু করেছে। চাষীরা আগের তুলনায় টমেটোর দাম বেশি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন >> রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যু

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ফুলকি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, কৃষি পণ্য পরিবহনে কোন বাধা নেই। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাবে কোন বাধা থাকবে না। পুলিশ এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করছে এবং করবে। সেভাবেই টমেটোর বেপারীরাদেরকে পঞ্চগড়ে আনা হয়েছে। বেপারিরা টমেটো কিনে ট্রাক লোড করে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে টমেটোর দামও বেড়েছে। পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট ফুলকি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, টমেটো বেপারিদেরকে আমরা পঞ্চগড়ে নিয়ে এসেছি। এবং বেপারিরা জেলার বিভিন্ন জায়গার কৃষকদের ক্ষেতে গিয়ে টমেটো ক্রয় করছে। যেখানে টমেটোর মন ছিল ৮০-থেকে ১০০ টাকা। বেপারিরা আসায় এখন টমেটোর মন ৩শ টাকা। আশাকরি টমেটোসহ অন্য সর্বজির বাজার আরও ভালো হবে। আমরা চাই পঞ্চগড়ের কৃষকরা সর্বজির ন্যায মুল্য পাক। এ বিষয়টা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছি। পঞ্চগড় জেলা কৃষি বিভাগ জানায় এবার পঞ্চগড় জেলায় ৯৩০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয়েছে। এ থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদন হওযার সম্বভনা রয়েছে।