গাইবান্ধা প্রতিনিধি : সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ যখন ঘরে বন্দি তার মাঝেই এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। আর রমজানের শুরুতেই পাইকারী ও খুচরা বাজারে বেড়ে গেছে সব রকম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। পিঁয়াজের অস্থিরতা কমতে না কমতেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আদাসহ মসলাজাতীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদার দাম।

রমজান মাসে সাধারণত প্রতি বছরই বেশ কয়েকটি পণ্য চড়া দামে বিক্রি হয়। বিশেষ করে পিঁয়াজ, বেগুন, ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, খেজুর, চিনি, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

আরও পড়ুন >> ৮০ টাকার আদা খাতুনগঞ্জে ২৫০, খুচরা বাজারে ৩৫০

গত শনি ও রবিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে বাজারে আদা বিক্রি হতো ১৮০ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা। রসুন বিক্রি হতো ১০০ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৪৫ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। আলু বিক্রি হতো ২৫ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো ৩৫ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। মসুর ডাল বিক্রি হতো ১০০ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। সয়াবিন তেল বিক্রি হতো ৯৫ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে। অপরদিকে সবজির দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকলেও বেড়েছে চালের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে চালের দাম প্রতিবস্তায় বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

ক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু সিন্ডিকেট বাজারে করোনার অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। একদিকে করোনার প্রকোপ অপরদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় চরম দুর্ভোগ পোঁহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন >> পঞ্চগড়ে টমেটো চাষিদের মুখে হাসি ফোটালো জেলা প্রশাসন

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, লকডাউনের কারণে অনেক পণ্যবাহি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পাইকারি বাজারে যাওয়া-আসার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারপরেও বেশি ভাড়া দিয়ে মালামাল নিয়ে আসতে হচ্ছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের নিকট পণ্য ক্রয়ের চালান দেখতে চাইলে তারা দেখাতে রাজি হয়নি।

ক্রেতা সাধারণ ও সচেতনমহলের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।