দিন যত যাচ্ছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ততো বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতেও থেমে নেই ঈদের কেনাকাটা। মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতেও চলছে ঈদের শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা। তবে আগের তুলনায় এবার ফুটপাতে বিক্রির পরিমাণ বেশ কম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাত থেকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করে থাকেন। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের আয় কমে গেছে। অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। সবাই এখন জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। এ কারণে ফুটপাতে তেমন বিক্রি হচ্ছে না। যাদের টাকা আছে তারা মার্কেটে ছুটছেন। যে কারণে বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়।

শনিবার খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের পাশের ফুটপাতের একটি দোকান থেকে বচ্চার জন্য নতুন পোশাক কেনা রিকশাচালক মিলন বলেন, দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে গোরানে থাকি। রিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই সংশার চালায়। আল্লাহ্ রহমতে রিকশা চালিয়ে ভালোই আয় হচ্ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস আমাদের অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। সরকার ছুটি ঘোষণার পর তো আমাদের আয় একদমই ছিল না। তবে মার্কেট খোলার কারণে কয়েকদিন ধরে কিছু আয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, কষ্ট করে সংসার চালায়। তারপরও প্রতিবছর ঈদের সময় পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনি। এবার সবার জন্য কেনা সম্ভব হবে না। গত কয়েকদিন ধরে কিছু টাকা জমিয়েছি। সেই টাকা দিয়ে এখন ছেলে ও মেয়ের জন্য নতুন পোশাক কিনছি। ওদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমার সব সুখ।

footpath

ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতা শামিম বলেন, আমাদের ব্যবসায় এবার খুব মন্দা। বিক্রি তেমন একটা নেই। মাঝে মধ্যে কিছু ক্রেতা আসছেন। আসলে আমাদের কাছ থেকে যারা কেনাকাটা করেন, তাদের অনেকের এখন আয় নেই। রিকশাচালক, ভ্যানচালকদের যে আয় হচ্ছে তা দিয়ে তারা জীবন বাঁচাতেই ব্যস্ত। নতুন পোশাক কিনবে কী করে। আমাদের অবস্থাও অনেকটা ওদের মতো হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি।

তিনি বলেন, করোনার আগে সাধারণ দিনে যে বিক্রি হতো, এখন ঈদের মার্কেটেও তার সমান বিক্রি হচ্ছে না। তারপরও করোনার ভয় নিয়ে প্রতিদিন বের হচ্ছি। বের না হয়ে তো উপায় নেই। আয় করতে না পারলে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব কী ভাবে। এখন ঈদের কারণে কিছু বিক্রি করতে পারছি। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ঈদের পর কিভাবে চলবে সেই চিন্তায় রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না।

রামপুরায় ফুটপাত থেকে বাচ্চার জন্য নতুন পোশাক কেনা রিতা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের পক্ষে মার্কেটের দোকান থেকে নতুন পোশাক কেনা সম্ভব না। ছেলে কয়েক দিন ধরে নতুন পোশাকের জন্য বায়না ধরেছে। তাছাড়া ওর আগের পোশাকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাই অনেক কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়ে ছেলের জন্য কেটাকাটা করছি।

footpath

রামপুরার ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতা রহিম বলেন, আমি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পোশাকের ব্যবসা করছি। কখনো ঈদের সময় এমন পরিস্থিতি দেখিনি। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবার ৫০ ভাগের এক ভাগ বিক্রি হচ্ছে না। আগে দোকান খুলতেই মানুষ ভিড় করতো। অনেকে মটরসাইকেলে এসেও আমাদের কাছে থেকে কেনাকাটা করতো। আর এখন হাতে গোনা দুই একজন ক্রেতা আসছে।

তিনি বলেন, ফুটপাতের দোকানে বিক্রি নেই। কিন্তু মার্কেটে গিয়ে দেখন মানুষের ভিড়ে হাঁটতে পারবেন না। তার মানে যাদের টাকা আছে তারা ঠিকই মার্কেটে যাচ্ছেন। যত কষ্ট সব নিম্ন আয়ের মানুষের। আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীরাও খুব কষ্টে আছে। আগে আমাদের দিন ভালোই চলতো। কিন্তু করোনা আমাদের সব সুখ কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু যাদের টাকা আছে তারা ঠিকই ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে।