লকডাউন শিথিল করায় গতকাল রোববার থেকে খুলেছে অফিস আদালত। ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর আজ সোমবার থেকে গণপরিবহনও চলাচল শুরু করেছে রাজধানীসহ সারাদেশে।

মন্ত্রণালয়ের যেসব নির্দেশনা মানার শর্তে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা মান্য করা। কিন্তু রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ পরিবহন মানছে না সে নির্দেশনা। তাছাড়া বর্ধিত ভাড়ার নতুন চার্টও ঝুলন্ত দেখা যায়নি।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর ও কলেজগেট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো ও নামানো হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবহনে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবানুনাশক স্প্রে’র ব্যবস্থা। হেলপার কিংবা কনডাক্টর টেনে টেনে বাসে যাত্রী তুলছেন সেই পুরাতন অভ্যাসেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যেই অফিস খোলা ও গণপরিবহন সীমিত আকারে চলাচলের সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

bara

বিআরটিএ’এর ওই সুপারিশকে গণবিরোধী উল্লেখ করে চলা সমালোচনার মধ্যেই গতকাল রোববার বিআরটিএ এ সুপারিশের মাত্র ২০ শতাংশ কমিয়ে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তৃক ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে প্রতিবাদ জানানো হলেও কর্ণপাত করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার বর্ধিত ভাড়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে।

সোমবার সকালে শিশু মেলা ও কলেজ গেট এলাকায় দেখা যায়, সাভার আশুলিয়া গাজীপুর মানিকগঞ্জ মিরপুর উত্তরা টঙ্গী আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে বাস। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ভূইয়া পরিবহন, ট্রান্স সিলভা, আলিফ, অগ্রদূত, এস এম লাভলী দিশারী, বৈশাখী, নিউ ভিশন মিরপুর মেট্রো, সজন হিমাচল, তালুকদার ও সাভার পরিবহন। এর অধিকাংশ পরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা কম। বাসের ভিতর দুই সিটে একজন করে যাত্রী বসার নিয়ম ঠিকই মানা হয়েছে। অধিকাংশ পরিবহনের প্রধান দরজা লক করে রাখা হয়েছে। কিন্তু যাত্রী ওঠানোর জন্য যত্রতত্র দাঁড়াতে দেখা যায় অধিকাংশ বাসকে। যাত্রী ওঠানোর ক্ষেত্রে এবং নামানোর ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

পুরাতন অভ্যাসেই হেলপারকে দেখা যায় কাঙ্ক্ষিত রুটের বাসের যাত্রীকে বাসে টেনে তোলার দৃশ্যও। বাসে যাত্রী উঠানো ও নামানোর ক্ষেত্রেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ পরিবহনে দেখা যায়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা জীবাণুনাশক স্প্রে।

মোহাম্মদপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী ভূইয়া পরিবহনের একটি বাসের হেলপার শরিফ বলেন, বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে, যাত্রীরা চাইলে তা প্রয়োগ করা হচ্ছে।

bara

ট্রান্স সিলভার গাড়িতে দেখা যায়নি জীবানুনাশক স্প্রে। আলিফ পরিবহনেও একই অবস্থা।

তবে অগ্রদূত বাসের হেলপার সোহাগ জানান, বাসের ভেতরে যাত্রী নিয়ম মতো বসছে। সেখানে বসার পর স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী উঠানো ও নামানোর ক্ষেত্রে টেনে ধরেই যাত্রী উঠানোর ব্যাপারে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

তবে মিরপুর আনসার ক্যাম্প থেকে মোহাম্মদপুর বছিলা রুটে চলাচলকারী প্রজাপতি পরিবহনের কয়েকটি বাসে দেখা যায় নিয়ম মেনে যাত্রী উঠানো ও জীবানুনাশক স্প্রে দিতে।

মিজানুর রহমান নামে ভুইয়া পরিবহনের এক যাত্রী জানান, অনেকক্ষণ অপেক্ষার একটি বাস পেলাম। নিয়ম মানার বিষয়টি মাথায় কাজ করলেও তাড়া থাকায় ও বাস ছুটে চলায় আর তর সইছিল না। উঠতে হয় বাধ্য হয়ে।

সবুজ নামে এক যাত্রী বলেন, ভয়ে উঠতে মন চায় না। কিন্তু নিজস্ব পরিবহন নেই যেতে হবে দূরের পথ, হাঁটার অবস্থাও নেই গরমে। যাত্রী যেহেতু কম, বাসগুলো যদি নিয়ম মেনে ধীরে সুস্থে যাত্রী উঠানামা করতো একটু চলাচল করে স্বস্তি পেতাম।