আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। বিষয়টি আমরা সম্মানিত সচিবকে জানিয়েছি। আমি এ বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সরকারি নির্দেশনা পালনে আবারও অনুরোধ করছি।

‘পাশাপাশি এই দুঃসময়ে যে সকল পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে, স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএ, ডিএমপি, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসক, ভিজিল্যান্স টিমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি। সংকটের এই সময়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মানবিক সহায়তা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ২১তম স্থানে নেমে এসেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। এটাই বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। এই অবনতিশীল পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে শৈথিল্য প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলবে। আমি সরকারের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনসমূহকে সচেনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। গোটা জাতি এই সংকটে সকলের নিকট দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, ‘দ্বিমত, বহু-মত গণতান্ত্রিক সমাজের অলঙ্কার। কিন্তু অভিন্ন প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা দ্বিমত পোষণ করতে পারি না। এখানে ঐক্যবদ্ধ থাকাই সংকট সমাধানের বড় শক্তি। এতে লড়াইয়ের ময়দানে থাকা যোদ্ধারা মনোবল পাবেন। তাই আমি বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে বলব, সরকারের সমালোচনাকে আপনারা নিত্য রুটিন-ওয়ার্কে পরিণত করবেন না। এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি করোনা সংক্রমণ তথা ভাইরাসকে প্রাণশক্তি জোগাচ্ছে।’

‘সংকটের গহীন আঁধারে আশার আলো হাতে লড়াই করা কান্ডারি দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে তার সাহসী নেতৃত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও দুর্গত মানুষের পাশে আছেন। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যায় ও দুর্নীতির তার কঠোর অবস্থান ত্রাণে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।’

এই সংকটকালে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণকে সংক্রমণরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা পালন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক পরিধানে উদ্ভুদ্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা সংকটকে ঘনীভূত করার নামান্তর— বলেন সেতুমন্ত্রী।

কাদের বলেন, অভিযোগ আছে, অনেক হাসপাতালে করোনারোগীকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। যথাযথ সেবা দিচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও করোনাযোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই সংকটে হাসপাতালে উপেক্ষিত হলে রোগীরা যাবে কোথায়?

‘বাংলাদেশে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। খাদ্য নিরাপত্তায় আমরা এখন শক্ত অবস্থানে। আগামী ছয় মাসের খাদ্য মজুত আছে। সামনে আছে কল্যাণমুখী বাজেট। কাজেই আমি সকলকে আশা না হারিয়ে, হতাশার আবর্তে নিমজ্জিত না হয়ে আশা ও মনোবল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।