গাইবান্ধা প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৷ এতে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার ফলে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যা।

ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী, ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়াও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তিস্তা ও ঘাঘট নদীবেষ্টিত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বানের পানিতে গাইবান্ধা-বালাসী সড়কও তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে ওয়াপদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

বন্যা কবলিতদের অভিযোগ, ফুলছড়ি উপজেলার সৈয়দপুর ঘাট এলাকায় গতবছর বানের পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বালাসীঘাটের ওয়াপদা বাঁধের পূর্ব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাঁচ গ্রামের অন্তত দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির স্রোতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই এলাকার লোকজনের মাঝে বন্যা ও নদী ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যার ফলে গবাদিপশু নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছেন। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গাইবান্ধায় ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ঘাঘট, তিস্তা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। আগামী দুই দিন থেকে তিনদিন আরও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো জরুরি মেরামতসহ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।