সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : ভারতের পাহাড়ি ঢলে ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার। এছাড়াও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে পাহাড়ি ঢল এবং সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট, নবীনগর, আরপিন নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দিয়েছে প্রশাসন। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে সুরক্ষা সামগ্রী। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ১১টি উপজেলায় ৪১০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২১৩ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

sunamgong02

শহরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা দিলাল আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকাটি সুরমা নদীর নিকটবর্তী হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি এসে আমাদের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করছে। রাস্তাঘাটে হাঁটু পানি। বর্তমানে আমরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি।

শহরের ময়নার পয়েন্ট এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম কালা বলেন, বানের পানিতে আমার পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন যদি সরকার আমাদের সহায়তা করে তাহলে কিছুটা হলেও আমাদের উপকার হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সে কারণে পাহাড়ি ঢলে আমাদের হাওর এলাকায় দ্রুত গতিতে পানি প্রবেশ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাবার সরবরাহ করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। এছাড়াও যে কোনো সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।