রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আগামী ১৩ জুলাই এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন আদালত। একই সঙ্গে, এ ঘটনার মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ-সংক্রান্ত কয়েকটি রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (২৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সে আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ, নিয়াজ মোহাম্মদ মাহবুব ও সাহিদা পারভীন শিলা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও তানজিব উল আলম।

এর আগে গত ৩০ মে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণের আগুনে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী নিয়াজ মাহমুদ।

ওই রিটের শুনানির পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের আইজি, ফায়ার ব্রিগেড কর্তৃপক্ষ ও রাজউকের কাছে পৃথক পৃথক রিপোর্ট চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ৫ জুন হাইকোর্টে দাখিল করা তিনটি প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার তথ্য উঠে আসে।

গত ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুনে পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সরকারি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

শুনানিতে হাসপাতালের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান আদালতে বলেন, তদন্ত রিপোর্টগুলো দেখে আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দাখিল করতে চাই। এরপরই আদালত তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে ২২ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। পরে গত ২২ জুন বিষয়টি শুনানির না করে ২৯ জুন ঠিক করেন আদালত। আজ শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট।