ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরে অন্যান্য সব দেশের ক্রিকেটারদের মতো খেলতে পেরেছিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও। পরের আসর থেকে আইপিএলে নিষিদ্ধ হন পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। প্রথম আসরে খেলা গুটিকতক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মধ্যে অন্যতম উমর গুল।

তখনকার সময়ের অন্যতম সেরা গুলকে একদম শেষদিকে নিজেদের দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই এক আসর খেলেই আইপিএলের পূর্ণ স্বাদ নিতে পেরেছিলেন গুল। বিশেষ করে কলকাতার মালিকানায় জনপ্রিয় বলিউড তারকা শাহরুখ খান থাকায় আরও বেশি উপভোগ্য হয়েছিল গুলের আইপিএল অধ্যায়।

তিনিই জানিয়েছেন, কলকাতা কোন ম্যাচ হেরে গেলেও পার্টি বন্ধ হতো না তাদের। প্রতি ম্যাচের পর টিম হোটেলে ফিরে দলের সবাই মিলে পার্টি করা ছিল তাদের নিত্যদিনকার চিত্র। যার ব্যত্যয় ঘটতো না খুব একটা। এতে খেলার পরিবেশ সহজ হয় বলেই মনে করেন গুল।

ক্রিককাস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা খুবই উপভোগ করেছি। প্রথমবারের মতো এমন লিগ হয়েছিল। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে আমি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলাম এবং আইপিএলে একদম শেষদিকে সুযোগ পাই। আমরা তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলছিলাম।’

‘আমাদের (কেকেআর) প্রথম ম্যাচে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দেড়শ রান করেছিল। এরপর (সিরিজ শেষে) আমরা ভারতে যাই। সেখানে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অনেক সমর্থক রয়েছে। আইপিএল একটা পুরোপুরি ভিন্ন অভিজ্ঞতা, একটা উৎসবের মতো।’

এসময় ম্যাচের পরে টিম পার্টির কথা জানিয়ে গুল আরও বলেন, ‘আপনি যেকোন ম্যাচ শেষ করে হোটেলে গেলেই দেখবেন অনুষ্ঠান আছে কোন না কোন। শাহরুখ খান মালিক থাকায় কলকাতার নিয়মিত চিত্র ছিল এটি। আমরা জিতি অথবা হারি, প্রতি ম্যাচের পর ফটোশ্যুট হতো এবং এরপর নিত্যদিনের টিম পার্টি।’

তবে আইপিএল থেকে অনেক শিখেছেন বলে মনে করেন ডানহাতি এ পেসার, ‘এটা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি তখন অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তখনও আমি তরুণ এবং রিকি পন্টিংয়ের মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পেরেছি। এটা আমাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব এনেছে। আমরা জানতে পেরেছি কিংবদন্তি খেলোয়াড়রা নিজেদের কীভাবে পরিচালিত করে।’