আম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। করোনা মহামারির এই সময়ের মাঝেই চলছে ফলের মৌসুম। ঠিক এই সময়টিতে পাকা আমের ঘ্রাণে মম করে বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি বাসা। বিভিন্ন প্রজাতির, স্বাদে ও আকারের পাকা আমের জন্য পুরো বছর জুড়ে অপেক্ষার অবসান ঘটে এই মৌসুমে। সকাল-বিকালের নাশতা কিংবা দুপুরের ভাত, সাথে একটি পাকা আম না হলে যেন খাওয়ার পূর্ণতাই আসে না। আমে রয়েছে প্রায় ২০ ধরনের পুষ্টিগুণ। তাই জেনে নিন মহামারির এই সময়ে সুমিষ্ট পাকা আম খাওয়ার দারুণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা-

বাড়াতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

আমে থাকা ভিটামিন-সি, এ ও অন্যান্য ২৫ ধরণের ক্যারোটেনয়েডস খুব সহজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে কাজ করবে। রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি ইনফেকশনের সমস্যা কমাতেও সমানভাবে অবদান রাখবে ফলেট সমৃদ্ধ এই ফলটি।

চোখের জন্য উপকারী

পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ’র উপস্থিতি রয়েছে সুমিষ্ট এই ফলটিতে। বড় একটি পাকা আমের এক পাশের অংশ থেকেই পাওয়া যাবে সারাদিনের প্রয়োজনের ২৫ শতাংশ ভিটামিন-এ। ড্রাই আই প্রবলেম কমাতেও পাকা আম উপকারী।

কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে

পাকা আমে থাকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি, পেকটিন ও আঁশ। যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে কাজ করে। ফ্রেশ আমে থাকা পটাশিয়াম আমাদের শরীরের তরলের জন্য খুবই জরুরি একটি পুষ্টি উপাদান, যা উচ্চ রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

কমায় অ্যাসিডিটির সমস্যা

আমে রয়েছে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও অল্প পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিডিক উপাদানগুলো অ্যালকালাইজিং এর মাধ্যমে অ্যাসিডিটির সমস্যাকে প্রশমিত করতে কাজ করে।

খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে

পাকা আমের পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় উপাদান হল পেকটিন। যা পাকস্থলিস্থ খাদ্য উপাদানকে ভালোভাবে পরিপাক হতে সাহায্য করে। এছাড়া আমের বিশেষ কিছু এনজাইম খাদ্য উপাদানের প্রোটিনকে ভালোভাবে ভেঙে ফেলতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে পরিপাক ক্রিয়ায় অবদান রাখে।

ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী

আমে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি ত্বকের সুস্থতার জন্য খুবই জরুরি। প্রয়োজনীয় এই ভিটামিনটি ত্বকের কোলাজেন তৈরিকে ত্বরান্বিত করে, যা ত্বকের বয়সের ছাপ পড়ার সমস্যাকে স্লথ করে। এছাড়া আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলকে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে, যা চুল পড়ার হার কমিয়ে আনে।