মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে একদিনে (২৯ জুন সকাল ৮টা থেকে ৩০ জুন সকাল ৮টা) ৬৪ জনের মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মারা যাওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪৭ জনে।

গত ৩১ মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৯২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরে নিয়মিত বুলেটিন থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুসারে চলতি ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১৫৫ জনে। অর্থাৎ মারা যাওয়াদের মধ্যে ৬৩ শতাংশই চলতি মাসে (জুন)।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১-৭ জুন ১৯৬, ৮-১৪ জুন ২৮৩, ১৫-২১ জুন ২৯৩ এবং সর্বশেষ ২২-৩০ জুন পর্যন্ত ৩৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ করে একদিনে ৬৪ জনের মৃত্যুর খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিন মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪ থেকে ৪৫ জনের মধ্যে থাকলেও হঠাৎ করে মঙ্গলবার ৬৪ জনের মৃত্যু হয়। এদিকে গতকাল ২৯ জুন এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৪ জনের আক্রান্তের রেকর্ড তৈরি হয়।

একদিনে কেন এতো মৃত্যু জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইইডিসিআ ‘র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোশতাক হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে আজ হঠাৎ করে কেন এত বেশিসংখ্যক রোগীর মৃত্যু হলো তা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। আগামী দু-তিন দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তবেই বোঝা যাবে কেন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, হাসপাতালে মুমূর্ষু করোনা রোগীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট এবং হাই ফ্লু অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা চার সহস্রাধিক হলেও আজ তিন হাজার ৬৮২ জন আক্রান্ত হয়েছে।