রাজধানীর পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ (প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু) ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। পাশাপাশি ওই সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চার লেনের সেতুটিতে যানবাহন সীমিত ঘোষণা করা হয়েছে। কী পরিমাণ ওজন নিয়ে যানবাহন চলাচল করবে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে তাও জানিয়ে দেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

ঢাকার সদরঘাটে সোমবার (২৯ জুন) সকালে ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় সেতুটিতে ফাটল দেখা দেয়ার পর গতকাল সোমবার রাতেই যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। আজ সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক্সপার্ট টিম পরিদর্শন করার পর সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে।

মঙ্গলবার দুপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা অঞ্চল) সবুজ উদ্দিন খান বলেন, ‘সেতুর একটি জায়গায় ফাটল দেখা দেয়ায়, রাতে যানবাহন চলাচল স্থগিত করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পোস্তগোলায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ (প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু) আমরা এক্সপার্ট টিম বিশেষজ্ঞ দলসহ পরিদর্শন করেছি। এক্সপার্ট টিম তারা তাদের মতো করে কী ধরনের রিপেয়ার করলে ঝুঁকিমুক্ত হবে সে ধরনের ডিজাইন করছেন।’

তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে‌ সেতুটির ওপরে যানবাহন চলাচল সীমিত করে করে দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে ব্রিজের ওপরে চার লেনের দুটি বন্ধ করে দেয়া হবে। সকল ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্রিজটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।’

কবে নাগাদ সেতুটি ঝুঁকিমুক্ত হবে বা রিপেয়ারিংয়ের কাজ সম্পন্ন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সময় সাপেক্ষ, বেশ সময় লাগবে। আগামীকাল বুধবার আমাদের আরও অনেক ইকুইপমেন্ট আসবে। ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্ক্যান করা হবে, এক্সরে এর মতো করে ভেতরের অবস্থা দেখা হবে যে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সেটা দেখার পরে পরবর্তী ট্রিটমেন্ট ঠিক হবে। এজন্য বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।’

সেতুটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন গতকাল যে লঞ্চটি ডুবেছে সেটি উদ্ধার করতে আসা প্রত্যয়ের ধাক্কায়ই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপাতত সেতুটির সম্পূর্ণ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে ভারী যান চলাচলে আমরা অনুমোদন দেব। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ দিয়ে কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হবে না। সেজন্য মাইকিং, প্রচারপত্র এবং সাইনবোর্ড লাগানো হবে। ওই ব্রিজ দিয়ে শুধুমাত্র বাস-প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য কম ভারী যানবাহন চলাচল করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সাইনবোর্ড দিয়ে দেব, ব্রিজের ওপরে লোড লিমিট করে দেয়া হবে। কত টনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে সেটাও আমাদের এক্সপার্ট টিম বলে দেবে। আমরা বিকেল নাগাদ লোডের পরিমাণ জানিয়ে দেব।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৯ জুন) সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ যাচ্ছিল।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, ‘উদ্ধারকারী জাহাজের মাস্টার দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে চাইছিলেন। তার ভুলে সেতুতে আঘাত লাগতে পারে।’