দেশের কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও ভারতীয় অংশে তা হচ্ছে না। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির স্তর স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা একই অবস্থায় থাকতে পারে। অন্যদিকে মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কমতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

তারা আরও জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও উন্নতির দিকে থাকলেও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছু অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে পদ্মার গোয়ালন্দ অংশে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর মুনশিগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর মানিকগঞ্জের আরিচা অংশেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

Flood.jpg

পর্যবেক্ষণাধীন ১০১টি পানি স্টেশনের মধ্যে ৬৩টির পানি বাড়ছে, ৩৬টির কমছে ও ২টির পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি বাড়তে থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে ১৫টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তার মধ্যে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম অংশে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা অংশে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া অংশে ৫৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অংশে ৭০ সেন্টিমিটার, যমুনার ফলছড়ি অংশে ৮৩ সেন্টিমিটার, যমুনার বাহাদুরাবাদ অংশে ৮৬ সেন্টিমিটার, যমুনার সারিয়াকান্দি অংশে ৬৬ সেন্টিমিটার, যমুনার কাজিপুর অংশে ৭০ সেন্টিমিটার, যমুনার সিরাজগঞ্জ অংশে ৪১ সেন্টিমিটার, আত্রাইয়ের বাঘাবাড়ি অংশে ২১ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরীর এলাসিন অংশে ১৯ সেন্টিমিটার, পদ্মার গোয়ালন্দ অংশে ২০ সেন্টিমিটার, সুরমার কানাইঘাট অংশে ১৩ সেন্টিমিটার, সুরমার সুনামগঞ্জ অংশে ১৫ সেন্টিমিটার এবং পুরাতন সুরমার দিরাই অংশে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।