দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯ ) আক্রান্তের সংখ্যা। এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে ১৯৩টি কারখানার ৪৫৬ জন পোশাক শ্রমিক সংক্রমিত হয়েছেন। আর আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬ জন।

বুধবার (৮ জুলাই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্প পুলিশ) ফরহাদ হোসেন  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিল্প পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজিএমইএ’র ৭২টি কারখানায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৩১ জন। আর মারা গেছেন ৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৬ জন।

বিকেএমইএ’র ৩২টি কারখানায় করোনায় আক্রান্ত ১০০ জন, সুস্থ হয়েছেন ৯৬ জন। আর বিটিএমএ’র ৩টি কারখানায় ৪ জন আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ জন।

বেপজার ৫৭টি কারখানায় করোনায় আক্রান্ত ৭৯ জন, সুস্থ ৬৪ জন। এছাড়া অন্যান্য ২৯টি কারখানায় ৪২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। আর মারা গেছেন দুই জন। সব মিলিয়ে ১৯৩ কারখানায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৬ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৬১ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

অঞ্চলভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার ৩৪টি কারখানায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন আর মারা গেছেন ২ জন, গাজীপুরের ৩৯টি কারখানায় আক্রান্ত ৯৭ জন, চট্টগ্রামের ৫৬টি কারখানায় ৬২ জন আক্রান্ত ও মৃত্যু ১ জনের, নারায়ণগঞ্জের ৪৫টি কারখানায় আক্রান্ত ১১৫ জন আর মৃত্যু ১ জনের, ময়মনসিংহের ১৩টি কারখানায় করোনা আক্রান্ত ৮২ জন ও মারা গেছেন ২ জন এবং খুলনার ৬টি কারখানায় ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আক্রান্ত শ্রমিকের তথ্য দেয়ার জন্য চালু করা হয়েছে হট-লাইন। পাশাপাশি চারটি জোন ভাগ করে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যে শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাকে এবং ওই শ্রমিকের সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও ছুটিতে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। যারা বেশি অসুস্থ তাদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। যার খরচ বহন করছেন কারখানার মালিকরা।

এদিকে সম্প্রতি পোশাক শ্রমিকদের করোনাভাইরাস শনাক্তে গাজীপুরের চন্দ্রায় ডা. ফরিদা হক মেমোরিয়াল ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেছে পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ জানায়, গাজীপুরের চন্দ্রায় স্থাপিত ল্যাবে প্রতিদিন ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে।