আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গরু বিক্রি ছাড়াও মেঘডুবি এগ্রো এবার নতুন সংযোজন নিয়ে এসেছে। তা হলো গরু কোরবানি করে অংশীদারদের কোরবানির মাংস বাসায় পৌঁছে দেবে। এখানে কেউ এককভাবেও দিতে পারেন আবার কয়েকজন মিলে শেয়ারেও দিতে পারেন। সর্বনিম্ন ১৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ার রয়েছে। ধর্মীয় সকল বিধিবিধান, অনুশাসন মেনে ভালো মাওলানা দিয়ে পশু জবাই করে প্রশিক্ষিত কসাইয়ের মাধ্যমে মাংস কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মেঘডুবি এগ্রোর কর্ণধার নাহিয়ানুর রহমান নাহিন  এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এর আগে আমার যে সমস্ত বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজন আমেরিকায় চাকরি করে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করে; টাকা থাকা সত্ত্বেও তাদের কোরবানি দেয়ার মতো পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছিল না। আমি ফার্ম চালু করার পর থেকে তাদের অনুরোধে পশু কোরবানি করে সব মাংস প্রক্রিয়াজাত করে তাদের বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। এবার এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠজন ছাড়াও এবার অচেনা, অপরিচিতরাও অনেকে এসে বুকিং দিচ্ছেন। চাহিদার কারণে বিষয়টি বাণিজ্যিক হিসেবে নিয়েছি। এ তালিকা কত বড় হবে এখনই তা বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদিনই শেয়ারে কোরবানি দেয়ার জন্য বুকিং চলছে।

jagonews24

নাহিয়ান জানান, এবার তারা কোরবানির জন্য দেড় হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। সারাদেশে তাদের ১১টি শাখায় প্রায় তিন হাজার গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে এবার কোরবানির উপযুক্ত রয়েছে দেড় হাজার।

তিনি বলেন, এই দেড় হাজার গরুর মধ্যে অন্তত এক হাজার ২০০ গরু ফার্ম থেকে বিক্রি হবে আশা করছি। বাকিগুলো কোরবানি দিয়ে বাড়ি বাড়ি মাংস পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে যাতে মানুষ উপকৃত হয়।

jagonews24

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা ১০০ বছরের মধ্যে কেউ দেখেনি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণেই এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে হাটগুলোতে জমজমাট পরিস্থিতি থাকবে না। সে কারণে আমাদের ভাবনাটাও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। পরিকল্পনাও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী করতে হচ্ছে। এবার অনলাইনের বাজারটাও বাড়বে। এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও অনলাইন মার্কেটটা বিস্তৃতি লাভ করছে।

ঢাকার অদূরে বছিলায় ‘মেঘডুবি এগ্রো’ মোটাতাজাকরণ ফার্ম। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে এই ফার্মটি। ওই বছর কোরবানির জন্য পাঁচটি ষাঁড় পালনও করেন নাহিয়ান, যেগুলো নিজে এবং আত্মীয়-স্বজনরা মিলে কোরবানি দেন। এর মধ্য দিয়েই বাজারের ইনজেকশন পুশ করা গরুর মাংসের পার্থক্য বুঝতে পারেন। পরের বছর কোরবানির জন্য আরও গরুর চাহিদা আসতে থাকে এই ফার্মে।

jagonews24

মূলত বছিলার গার্ডেন সিটির এ শাখাই এখন মূল খামার হিসেবে বিবেচিত। এখানে প্রায় তিনশোর অধিক গরু রয়েছে। ৫০ হাজার থেকে শুরু করে আট লাখ টাকার গরুও আছে। মাত্র ৫২ কাঠা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ খামারে আধুনিকমানের সব প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হয়েছে।

খামারটিতে জার্সি, হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান, উলবারি, কাংরেজ, হালিকার, গির, দেশালসহ নিজস্ব উপায়ে ব্রিড করা বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। গরুর খাদ্যতালিকায় খড়, চিটাগুড়, গম, চালের খুদ, ভুসি, ডাবলি, ছোলা, কুঁড়া, খৈল, ধান ভাঙা, খড়, কাঁচা ঘাস ছাড়াও শাক-পাতা জাতীয় খাবার রয়েছে।