বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) দুজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ভার্চুয়াল হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়েছেন সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার।

বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করেই তারা এই জামিন চেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে দেশে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর গত তিন মাসে হাইকোর্টে কোনো আগাম জামিন আবেদন কিংবা মঞ্জুর হতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১৯ জুলাই) রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ‘রন হক শিকদার অ্যান্ড এনাদার বনাম রাষ্ট্র’ শিরোনামে জামিন আবেদনটি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের ভার্চুয়াল বেঞ্চের সোমবারের (২০ জুলাই) কার্যতালিকায় এক নম্বর ক্রমিকে মোশন (নতুন আবেদন) রয়েছে। আর জামিন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, সাঈদ আহমেদ ও মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুনের নাম।

তারা সিঙ্গাপুর থেকে আগাম জামিন চেয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

jagonews24

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য, ওই মামলায় রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের আগাম জামিনের আবেদনটি ২ জুলাই ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দেয়া হয়।

এই জামিন আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংকের এমডি এবং অতিরিক্ত এমডিকে আটক ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদারের আগাম জামিনের আবেদনটি সোমবারের কার্যতালিকায় এসেছে। তবে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরুর পর গত তিন মাসে হাইকোর্টে আগাম জামিনের কোনো বিষয় আমি দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘তারা দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেছেন। আইনের দৃষ্টিতে দেশের বাইরে থেকে আগাম জামিনসহ আদালতে কোনো ধরনের প্রতিকার চাওয়ার চাওয়ার সুযোগ নেই।’

এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) দুজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৯ মে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুলশান থানায় রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার ঘটনার পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই ভাই বিদেশে চলে যান বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে ঘটনাটি ঘটে। এক্সিম ব্যাংক মামলা করে ১৯ মে। পুরো ঘটনাটি ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব নিয়ে। এই ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তি পরিদর্শনের নামে এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে ডেকে আনা হয়েছিল। এ সময় জামানত হিসেবে ওই সম্পত্তির বন্ধকি মূল্য কম উল্লেখ করেন ব্যাংকটির এমডি ও অতিরিক্ত এমডি। এরপরেই গুলি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির এমডির কাছে একটি সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন।