বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়াউর রহমানের নাম ছাড়া কখনওই সেটা পূর্ণাঙ্গ হবে না এবং সেই ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য না। এখন ইতিহাস বিকৃতি করে যারা কথা বলে তাদের মস্তিষ্ক বিকৃত।’

বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘২৬ মার্চ শহীদ জিয়াউর রহমান যখন রিভোল্ট করে কর্নেল জানজুয়াকে নিজ হাতে হত্যা করে বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ড তার নিজ হাতে নিয়ে নিলেন এবং জনসম্মুখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, তখন পরিচয় কী? মেজর জিয়া। কই সেইদিন তো এই প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বড় বড় নেতারা চ্যালেঞ্জ করেননি- হু ইজ জিয়া (জিয়া কে)? সে কে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দেয়ার?’

তিনি বলেন, ‘সেইদিনতো আনন্দে উৎফুল্ল হয়েছিল যে রাস্তা পেলাম, দিকনির্দেশনা পেলাম। তার প্রমাণ এপ্রিলের ১৭ তারিখ মুজিব নগরের গঠিত অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ সাহেবকে বিদেশি সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করলেন তখন স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, মেজর জিয়া ইতোমধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ চলছে (we salute him) আমরা জনগণের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। তাই বলব- জিয়াউর রহমানকে ইতিহাসে রাখবেন কী রাখবেন না সেটা আপনাদের কিন্তু। কিন্তু জিয়াউর রহমান তো ইতিহাস সৃষ্টি করে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আদালতের উদ্দেশে বলতে চাই, ১৯৭১ সালে আদালতের কোনো রায়ে বা ঘোষণায় স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদালত কর্তৃক স্বীকৃত না। যুদ্ধ করে, লড়াই করে, রক্ত দিয়ে, সন্তান দিয়ে, মা-বোনের ইজ্জত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতা আমাদের প্রাপ্তি না, এই স্বাধীনতা আমাদের অর্জন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ইতিহাস সঠিক না বেঠিক সেটা কোনোমতেই আদালতের বিষয় না। আমরা যেহেতু নির্যাতিত, সেহেতু এমনিতেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকে তাদেরকে জোর করেই ক্ষমতা থেকে নামাতে হয়। তারা কিন্তু মুখের কথায় যায় না। এটা ইতিহাসের সত্য কথা।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পতাকা যার হাতে তিনি কখনও গৃহবন্দি, কখনও কারাবন্দী। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ এই ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়াউর রহমানের নাম ছাড়া কখনই সেটা পূর্ণাঙ্গ হবে না এবং সেই ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য না। এখন ইতিহাস বিকৃত কথা যারা বলে তাদের মস্তিষ্ক বিকৃত। আর বিকৃত মস্তিষ্ক বলে একজন স্বাধীনতার ঘোষক, যে ঘোষণা তৎকালীন সাড়ে সাত কোটি মানুষ নিজের কানে শুনেছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যারা সেইদিন যুদ্ধে শামিল হয়েছেন, তারা কিন্তু কার নেতৃত্বে থাকবেন এরকম কাউকে নেতৃত্বে পাওয়া যায়নি। শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ আগস্ট গ্রেফতার হয়েছেন এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২৭ তারিখ আওয়ামী লীগ ঢাকায় সারাদেশে একটি হরতাল আহ্বান করেছে। একটা হরতাল দিয়ে একটা সরকার পতন করা সম্ভব হয় না। একটি হরতাল দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়, সেটা যারা অধিক নেশা করেন তারাও বিশ্বাস করবেন না। সুস্থ মানুষ তো প্রশ্নই আসে না।’

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।