কাঁঠালের বীজের উপকারিতা না জেনে অনেকেই তা ফেলে দেন। তবে এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা মোটেই কম নয়। এদিকে সবজি হিসেবে বলুন কিংবা হালুয়া হিসেবে, কাঁঠালের বীজ বেশ সুস্বাদু। কাঁঠালের বীজে রয়েছে থিয়ামিন, রাইবোফ্লাভিন নামে দুটি উপাদান, যা শরীরে এনার্জির ঘাটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা জিঙ্ক, আয়রন, তামা, কপার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ত্বককে সুন্দর করে তোলে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন। কাঁঠালের বীজের উপকারিতার কথা প্রকাশ করেছে বোল্ডস্কাই।

সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে কাঁঠালের বীজ। এতে আছে উচ্চমানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন-সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশপাশি এটি ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

jagonews24

সুন্দর ত্বক কে না চায়! কিন্তু বলিরেখা সেই সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। আর এই বলিরেখা দূর করতে কাজ করে কাঁঠালের বীজ। কাঁঠাল বীজ ভিজিয়ে বেটে নিন, এরপর কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। তারপর সেই বাটা বীজ ত্বকে লাগান। নিয়মিত এই মিশ্রণ ত্বকে ব্যবহার করলে বলিরেখা দূর হয়ে যাবে এবং ত্বক ঝকঝকে হয়ে উঠবে। এটি চোখের নিচের কালি দূর করতেও সাহায্য করবে।

হজমে সমস্যা থাকলে পাতে রাখতে পারেন কাঁঠালের বীজ। কাঁঠালের বীজ রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিয়মিত খেলে বদহজমের সমস্যা দূর হবে। এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

jagonews24

মানসিক চাপ থাকবেই। তবে তা বাড়তে না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কাঁঠালের বীজে থাকা প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। মানসিক চাপ কমাতে কাঁঠালের বীজ রাখুন পাতে।

আমেরিকার জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কাঁঠালের বীজ ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি ত্বকের নানা রোগ সারানোর পাশাপাশি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। চুল ভালো রাখতেও এটি কার্যকরী।

চোখ ভালো রাখতে চাইলে খাবারের তালিকায় রাখুন কাঁঠালের বীজ। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন-এ, যা দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে এবং চোখের সব সমস্যাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

jagonews24

কাঁঠালের বীজে আছে প্রচুর পআয়রন, যা হিমোগ্লোবিনের অন্যতম উপাদান। ফলে এই বীজ খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয় এবং অ্যানিমিয়ার সমস্যা দূর হয়। আয়রন আমাদের মস্তিষ্ক ও হার্টকেও সুস্থ রাখে।

যারা নিরামিষ খান, তাদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে কাঁঠালের বীজ। তাই নিরামিষভোজীরা ডায়েটে রাখতে পারেন এটি।