মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হয়তো এক মাসের মধ্যেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন যে, করোনার এই মহামারি পরিস্থিতি নিজে নিজেই চলে যাবে।

মঙ্গলবার এবিসি নিউজে প্রচারিত সমর্থকদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রাম্প বলেন, আমরা করোনাভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার খুব কাছাকাছি আছি।

তিনি বলেন, আমরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি পেয়ে যাব আপনারা তা জানেন। হয়তো এটা তিন সপ্তাহ বা চার সপ্তাহ। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার সকালে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী চার সপ্তাহ বা আট সপ্তাহের মধ্যেই হয়তো ভ্যাকসিন চলে আসবে।

এদিকে, ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হচ্ছে, আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফায়দা লুটতে রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প দ্রুত ভ্যাকসিন আনতে চাচ্ছেন। সে কারণে তিনি দেশটির সরকারী স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক এবং বিজ্ঞানীদের রাজনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন।

এই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন পেছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প এবং বাইডেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে দেশটির সংক্রামক রোগের প্রধান চিকিৎসক ডা. অ্যান্থনি ফাউসি-সহ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে হয়তো ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়া হবে।

এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও নেই কোনো দেশ। গত কয়েক মাস ধরেই টানা করোনা সংক্রমণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ট্রাম্পের দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রে এর মধ্যেই করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ লাখ ৮৮ হাজার ১৪৭। এর মধ্যে মারা গেছে ২ লাখ ১৯৭ জন।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৪০ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬ জন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ২৫ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৪। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ১৪ হাজার ১৬৫ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউইয়র্ক এবং জর্জিয়ায় সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।