রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিক্তা আক্তার ওরফে স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই সঙ্গে বাসায় চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে দুই গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিক্তা আক্তার ওরফে স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন আদালত।

২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সুকন্যা টাওয়ারে নিজ বাসা থেকে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, তাকে হত্যা করা হয়েছিল। পরদিন সকালে পলাতক দুই গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিক্তা আক্তার ওরফে স্বপ্নাসহ তিনজনকে আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদের গামা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ২০ ভরি স্বর্ণ যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা, একটি স্যামসাং জে-৭ মোবাইল সেট যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান।

মামলার পর স্বপ্না, রেশমা ও তাদের জোগানদাতা রুনু বেগম ওরফে রাকিবের মাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। স্বপ্না ও রেশমা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

২১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন মজুমদার গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিতা আক্তার ওরফে স্বপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। রুনু বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। মামলায় ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ২৭ জন সাক্ষ্য দেন।