সিলেট সংবাদদাতা : সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করা হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সিলেটের সাধারণ ছাত্র জনতা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ‘সিলেটের সাধারণ ছাত্র জনতা’ নামের একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা আন্দোলনে নামেন। প্রথমে তারা সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।

পরে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে তারা সিলেটের বন্দর আজার পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে অবস্থান নেন। প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।

ফাঁড়িতেই রায়হানকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেছেন তারা। একই অভিযোগে রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

বিক্ষোভকারীরা রায়হান হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, রায়হান হত্যায় যাদের নাম এসেছে; তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করা হোক।

বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। কেন তাদের মামলার আসামি করা হচ্ছে না। অভিযুক্তরা বাইরে এভাবে ঘোরাঘুরি করতে থাকলে মামলার তদন্তকাজ ব্যাহত হবে। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হেব।

এদিকে, দুপুর ১২টায় সিলেট জেলা পরিষদের সামনে নগরের নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হানকে পুলিশের হেফাজতে অমানবিক নির্যাতনে হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে ‘প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান প্রজন্ম’ নামের একটি সংগঠন মানববন্ধন করেছেন।

এতে সভাপতির বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের আহ্বায়ক ও জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার সিলেটের প্রিন্সিপাল মাওলানা সামীউর রহমান মুসা।

মাওলানা ফাহাদ আমানের পরিচালনায় এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- জামেয়া মাদানিয়ার সাবেক ছাত্র পরিষদের সভাপতি হাফিজ মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, প্রজন্মের সদস্য সচিব ও জামেয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, জামেয়া তালিমুল কোরানের প্রিন্সিপাল মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী, জামেয়া মাদানিয়ার সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন ও হাফেজ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, জনগণের নিরাপত্তায় যারা নিয়োজিত তাদের হাতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতিবিজড়িত শান্তির শহর সিলেটে খুনি প্রদীপের প্রেতাত্মাদের স্থান হবে না। ঘুষ ও প্রতারণাকে বাণিজ্য করে এক শ্রেণির বিপথগামী পুলিশ যেমন আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, সেই সঙ্গে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন করে আসছে। এসব বিপথগামী পুলিশ সিলেটের পরিবেশের সঙ্গে বেমানান।

বক্তারা আরও বলেন, সিলেট তার ইতিহাসে কখনও কোনো অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়নি; এবারও দেবে না। সিলেটের মানুষ আন্দোলনের ভাষা বোঝে আর সিলেটের আন্দোলনের ভাষা সারা দেশের মানুষও বোঝে। প্রশাসন যদি রায়হান হত্যায় জড়িতদের শাস্তি নিয়ে কোনো টালবাহানা করে তাহলে সিলেটবাসী বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেবে।